২০২৫ নাগাদ নবায়নযোগ্য শক্তি হবে বিদ্যুতের সবচেয়ে বড় উৎস

ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য শক্তি নিরাপত্তা ও দামের স্থিতিশীলতার কারণে বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। আর এর ফলে আগামী তিন বছরে নবায়নযোগ্য শক্তি বিদ্যুতের সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। 

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) আইইএ'র পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তি থেকে দুই হাজার ৪০০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করবে বিশ্ব। 

এই বিদ্যুতের পরিমাণ এক বছর আগে যা ধারণা করা হয়েছিলো তার চাইতে ৩০ শতাংশ বেশি। এর ফলে ২০২৫ সাল নাগাদ কয়লাকে টপকে নবায়নযোগ্য শক্তি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎসে পরিণত হবে বলে জানিয়েছে আইইএ। 

এবছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ান জ্বালানির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় জ্বালানির দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। 

গত ৮ মার্চ রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর এক মাস পর রাশিয়ান কয়লা ও জুনে অপরিশোধিত তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

জানুয়ারিতে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭০ মার্কিন ডলার। জুলাইতে গিয়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২২ ডলারে। আর প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম জানুয়ারিতে ইউনিটপ্রতি চার ডলার থেকে আগস্টে বেড়ে দাঁড়ায় ১০ ডলার। 

আইইএ'র তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের এই ৯ মাসে জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলারের মুনাফা করেছে। আর এর ফলে বিশ্বজুড়ে সৌর ও বায়ুশক্তি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। 

আইইএ'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন ক্ষমতার চার-পঞ্চমাংশ আসবে সোলার ফোটোভোলটাইক ও উইন্ড টার্বাইন থেকে। এর ফলে নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা আগামী পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হবে। 

এই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগের ৯০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি উৎসে হওয়ার ফলে কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসসহ অন্যান্য উৎসে বিনিয়োগ কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় বিয়েবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করে আইন পাস

অনবায়নযোগ্য শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি আইনের ফলে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে আগাচ্ছে উন্নত বিশ্ব। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে এ আগানোর গতি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মত আইইএ'র। 

তবে এতসব পদক্ষেপও বৈশ্বিক উষ্ণতার বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে রাখার জন্য যথেষ্ট নয় বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা। 


একাত্তর/এসজে