চীনে হঠাৎ করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পর করোনাবিষয়ক দৈনিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল হেলথ কমিশন (এনএইচসি)। বিধিনিষেধ শিথিল করে দেয়ার পর আক্রান্তের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছে তারা।
রোববার (২৫ ডিসেম্বর) বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, এখন থেকে করোনার তথ্য চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র থেকে জানানো হবে বলে জানিয়েছে হেলথ কমিশন।
তবে কতদিন পর পর করোনার তথ্য হালনাগাদ করা হবে সে সম্পর্কে কিছু জানায়নি তারা।
বেইজিংয়ের জিরো কোভিড নীতিতে পরিবর্তন আনার পর আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অভাব দেখা দেয়। রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্তের পরও গত চারদিনে কোনও মৃত্যুর তথ্য দেয়নি এনএইচসি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে কেবলমাত্র নিউমোনিয়া বা শ্বাসতন্ত্র অকেজো হয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদেরকেই তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।
ব্রিটেনভিত্তিক স্বাস্থ্য উপাত্ত প্রতিষ্ঠান এয়ারফিনিটি গত সপ্তাহে জানায়, চীনে প্রতিদিন ১০ লাখেরও বেশি লোক আক্রান্ত এবং পাঁচ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মানুষ সম্পদ আর ক্ষমতার লোভে গ্রাস করছে প্রতিবেশীকেও: পোপ
নভেম্বরের শেষের দিকে দৈনিক শনাক্তের নতুন রেকর্ড তৈরি হওয়ার পর উপসর্গহীন আক্রান্তদের গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা বন্ধ করে দেয় এনএইচসি। যার ফলে আক্রান্তের আসল সংখ্যা অনুমান করা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
গবেষণা সংস্থা ক্যাপিটাল রিসার্চের একটি গবেষণা নোটে বলা হয়েছে, মহামারির সবচেয়ে বিপজ্জনক সপ্তাহে প্রবেশ করছে চীন। ছড়ানো রোধ করতে কর্তৃপক্ষ কোনও উদ্যোগই নিচ্ছে না। নতুন চন্দ্রবর্ষের আগে মানুষজনের স্থানান্তর শুরু হয়ে যাওয়ায় দেশের সব এলাকায় শিগগিরই বড় ধরণের ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
একাত্তর/এসজে