বিশ্বে নতুন সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশই শীর্ষ এক শতাংশের দখলে

বিশ্বে ২০২০ সালে অর্জন করা নতুন সম্পদের প্রায় এক তৃতীয়াংশই দখল করেছে শীর্ষ এক শতাংশ ধনী ব্যক্তিরা। নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে অক্সফাম। 

সোমবার (১৬ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক বৈঠকের সাথে মিল রেখে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। 

'সারভাইভাল অব দ্য রিচেস্ট' নামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে অর্জন করা ৪২ ট্রিলিয়ন ডলারের এক তৃতীয়াংশই রয়েছে শীর্ষ এক শতাংশের দখলে। 

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার বাকি ৯৯ শতাংশ এই সময়ে যে সম্পদ অর্জন করেছেন, তার তুলনায় ওই এক শতাংশের অর্জিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ। 

পৃথিবীর বিলিয়নেয়ার সম্পদ প্রতিদিন দুই দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার করে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে কমপক্ষে এক দশমিক সাত বিলিয়ন কর্মী এখন এমন দেশে বাস করছেন যেখানে মুল্যস্ফীতি মজুরিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

একই সময়ে, বিশ্বের বিলিয়নেয়ারদের অর্ধেক এমন দেশে বাস করে যেখানে তাদের সরাসরি বংশধরদের জন্য কোন উত্তরাধিকার ট্যাক্স নেই।

অক্সফাম বলছে, তারা তাদের উত্তরাধিকারীদের কাছে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার রেখে যাওয়ার পথে রয়েছে, যা আফ্রিকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) থেকেও বেশি।

অক্সফামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের মিলিয়নেয়ার এবং বিলিয়নেয়ারদের উপর পাঁচ শতাংশ ট্যাক্স আরোপ করলে বছরে এক দশমিক সাত ট্রিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা যাবে, যা দুই বিলিয়ন মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনতে যথেষ্ট।

অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক গ্যাব্রিয়েলা বুচার বলেন, সাধারণ মানুষ যখন খাদ্যের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য ত্যাগ স্বীকার করছে, তখন অতি-ধনীরা তাদের স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র দুই বছরের মধ্যে, এই দশকটি বিলিয়নেয়ারদের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সেরা দশক হতে চলেছে। 

আরও পড়ুন: বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার, এখনও নিখোঁজ চার

সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভা, বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক নেতাদের একত্রিত করে।

সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই শীর্ষ সম্মেলনে ৫২ জন রাষ্ট্রপ্রধান এবং প্রায় ৬০০ জন সিইও অংশগ্রহণ করবেন।


একাত্তর/এসজে