ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং দেশটির সরকার (জেলেনস্কি সরকার) এই বাস্তবতা মেনে নিতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপ প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ।
এসময় উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইউক্রেনের ভেতরে এখন কোরিয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার মেদভেদেভ তার টেলিগ্রাম চ্যানেলের একটি পোস্টে এ মন্তব্য করেছেন। খবর রিপাবলিক ওয়ার্ল্ডের।
মেদভেদেভ আরও বলেন, ইউক্রেনের সাবেক এবং বর্তমান কর্মকর্তারা কোরিয় স্টাইলের ভাগাভাগি মেনে নেয়ার বিষয়টি এখন আলোচনা করছেন। ১৯৫০ সালের দিকে যেভাবে ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে কোরিয় যুদ্ধের অবসান হয়েছিল, তেমনিভাবে ইউক্রেন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। ভাগাভাগির এই ধারণাকে ইউক্রেনের কিছু লোক ঠেকিয়ে রেখেছেন। তবে চূড়ান্তভাবে তারা এই বিবৃতি দিতে পারেন যে, এ যুদ্ধে কেউ বিজয়ী হতে পারেনি এবং এজন্য বিভক্তির বিষয়টি মেনে নেয়াই শ্রেষ্ঠ পন্থা।
আরও পড়ুন: জনপ্রিয়তা কমছে বাইডেনের, অনিশ্চিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
ইউক্রেন দক্ষিণ কোরিয়ার মতো আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাবে এবং তারা হারানো ভূখণ্ডের ওপর মালিকানা দাবি করতেই থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে এখানে পার্থক্য হলো- ডানবাস অঞ্চলের জনগণ গণভোটের মাধ্যমে রাশিয়ার সাথে যুক্ত হয়েছে, তারা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো স্বাধীন কোনো রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেনি। সে কারণে কোরিয় দৃশ্যপট ইউক্রেনে বাস্তবসম্মত হয়ে উঠবে না।
এদিকে পার্সটুডে'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোরিয় স্টাইলে ইউক্রেনের বিভক্তির এই বিষয়টি মূলত কিয়েভের পক্ষ থেকে এসেছে। গত মাসে ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপপ্রধান অ্যালেক্সি দানিলভ দাবি করেছিলেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে রাশিয়া কোরিয় স্টাইলে ইউক্রেনকে বিভক্ত করার জন্য লবিং করছে যা কিয়েভ প্রত্যাখ্যান করেছে।
যদিও দানিলভের এই বক্তব্য আগেই নাকচ করেছে মস্কো এবং ন্যাটো সামরিক জোট ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য দায়ি করেছে।
একাত্তর/আরবিএস