কথায় বলে, যার হয় সেই বোঝে। তুরস্কের উত্তরে আর সিরিয়ার দক্ষিণের বিশাল অঞ্চলজুড়ে দুই ভয়াবহ ভূমিকম্পতে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের শিকার যারা হয়েছেন, তারাই বুঝছেন নরক কাকে বলে। বেঁচে যাওয়া মানুষদের মন থেকে কিছুতেই মুছে যাচ্ছে না আতঙ্ক আর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।
শুধু তাই নয় বেঁচে থাকার পরও এখন দুর্গত মানুষের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রচণ্ড শীতের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা। নেই খাদ্য। নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা। অনেককেই বাস করতে হচ্ছে যানবাহন কিংবা তাবুতে। ফলে ঝুঁকেতে আছেন শিশু ও বয়স্ক মানুষরা।
দুই ভূমিকম্পের পর প্রায় অর্ধশত আফটার শকের স্মৃতি এখন উদ্ধার পাওয়া তুর্কি ও সিরিয়ান নাগরিকদের মনে। সেই আতঙ্কের জেরে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত তুরস্কের প্রত্যন্ত সব এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন মানুষ। কোনও রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে তাঁরা নিরাপদ স্থানে যেতে চাইছেন।
এতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তুরস্কের বিভিন্ন উড়োজাহাজ সংস্থা। তাঁদের বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে দেশের একাধিক সংস্থা। টার্কিশ এয়ারলাইন্স, পেগাসাস এয়ারলাইন্স তুরস্কে দুর্গতদের জন্য বিনামূল্যে বিমান পরিষেবা ঘোষণা করেছে।
প্রত্যন্ত এলাকা থেকে বিনামূল্যে উড়োজাহাজ পৌঁছে দেবে দেশের রাজধানী আঙ্কারায়। অন্য নিরাপদ শহরগুলোতে আসার জন্যেও উড়োজাহাজের সেবা মিলছে বিনামূল্যে। শুধু নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নয়, গুরুতর আহতদেরও সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বড় বড় শহরে।
আরও পড়ুন: অর্থ ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এরদোয়ান
ভূমিকম্প বিধ্বস্ত এলাকা থেকে দলে দলে চলে আসা দুর্গতদের জন্য তুরস্কের বিভিন্ন শহরের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টের খুলে দেওয়া হয়েছে। হাতায়, নুরদাগি, মারাশের মতো এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ চলে আসছেন আঙ্কারা ও ইস্তামবুলে।
সোমবার সকালে জোরালো ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে তুরস্ক এবং সিরিয়ার মাটি। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিলে ৭.৮। মূল কম্পনের পর আফটার শকে কমপক্ষে ১০০ বার কেঁপেছে দুই দেশটির মাটি। ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে ৩৪ হাজারের গণ্ডি।
একাত্তর/এসজে