তুরস্কের জন্য ২০২৩ সালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি এরদোয়ান প্রবর্তিত ধারাতেই চলবে, নাকি আগের যুগে ফিরে যাবে, তার বড় পরীক্ষা হবে ১৪ মে’র সাধারণ নির্বাচনে।
তবে এমন সময়ই বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো তুরস্ক-সিরিয়া। আগে থেকেই অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাওয়া দেশটিতে এবার সংকট প্রকট হবে এমন ধারনায় করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৮৫ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প দেখলো তুরস্ক-সিরিয়া। ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ইতোমধ্যে দুই দেশে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে।
আহতের সংখ্যা লাখের উপরে। ধসে পড়েছে বহু স্থাপনা, বাসভবন এবং অবকাঠামো। সরকারি হিসাবেই তুরস্কে ছয় হাজারের বেশি ভবন সমতলে মিশে গেছে।
প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পটি এমন সময় আঘাত হেনেছে, যখন তুরস্ক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, দেশটিতে আসন্ন প্রেসিডেন্সিয়াল এবং সংসদীয় নির্বাচন।

তুরস্ক এরদোয়ানের নীতিতেই চলবে, নাকি আগের যুগে ফিরে যাবে, তা নিশ্চিত হবে আগামী ১৪ মের নির্বাচনে। এরদোয়ানেরও রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ হবে সেদিন।
এরইমধ্যে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ৫০০ কোটি ডলারের বেশি বরাদ্দ করেছেন এরদোয়ান। বাংলাদেশি টাকায় এটি ৫২ হাজার কোটি টাকার বেশি।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবার ১০ হাজার তুর্কি লিরা পাবে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি প্রদেশে গণহারে আবাসন সুবিধা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
তুরস্কে এখনই মূল্যস্ম্ফীতি ৫৭ শতাংশের বেশি। যেটি ৮০ শতাংশ ছাড়িয়েছিলো। গত বছর তুর্কি লিরার দাম ডলারের বিপরীতে কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ।

যা তুর্কিদের ক্রয় ক্ষমতা কমিয়েছে আর কমিয়ে দিয়েছে এরদোয়ানের জনপ্রিয়তাও। ঠিক এমন সময় ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ তার জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে বলেছে, এরদোয়ান খুব অপ্রচলিত নীতিতে অর্থনীতিকে মার্কিন ডলারের প্রভাবমুক্ত রাখার সৃজনশীল উপায় খুঁজে পেয়েছেন।
তুর্কিদের ব্যাংক আমানতে ১৩ শতাংশ সুদ দিচ্ছেন, মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলে সুদের হার বাড়িয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
তবে ইতিবাচক দিক হলো তুরস্কের সরকারি ঋণ বেশি না। জিডিপি অনুপাতে মাত্র ৩৪ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের তুলনায়ও এটি খুবই কম।
আরও পড়ুন: এবার ভূমিকম্প আঘাত হানল ভারতে
তার মানে এরদোয়ানের সরকার আরও অনেক ঋণ নিতে পারবে। যদিও তুরস্কের এবারের সংকটটি বাস্তবিক অর্থেই বিশাল।
বর্তমান তুর্কি সরকারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের এবং সম্ভবত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চ্যালেঞ্জে পড়বে। এরদোয়ান তা এড়াতে পারবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
একাত্তর/এসজে
