জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, উনিশ শতকের পর থেকে ব্যাপক হারে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েই চলেছে। এতে নিচু উপকূলীয় অঞ্চলগুলো অত্যন্ত হুমকির মুখে রয়েছে।
তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে থাকলে নিচু অঞ্চল এমনকি পুরো দেশ অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। খবর আল-জাজিরার।
বিশেষ করে বাংলাদেশ, চীন, ভারত এবং নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।
এছাড়া ব্যাংকক, জাকার্তা, লাগোস, লন্ডন, লস এঞ্জেলেস, মুম্বাই, মাপুতো, নিউ ইয়র্ক, সাংহাই এবং বুয়েনস আইরেসের মতো বড় শহরগুলো হুমকির মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, কম উচ্চতার উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৯০০ মিলিয়ন লোক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার হিসেবে প্রতি দশজনে একজন।
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তিনি আরো জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবী প্রতিনিয়ত উত্তপ্ত হচ্ছে। হিমবাহ এবং বরফ গলে যাচ্ছে।
নাসার গবেষণায় বরাতে তিনি বলেন, দেখা গেছে- অ্যান্টার্কটিকা প্রতি বছর গড়ে প্রায় দেড়শ বিলিয়ন টন বরফ গলছে। গ্রিনল্যান্ডের বরফ আরো দ্রুত গলছে বলে দাবি করে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, প্রতি বছর গ্রিনল্যান্ড থেকে ২৭০ বিলিয়ন টন বরফ গলে সমুদ্রের পানিতে মিশে যাচ্ছে।
এছাড়া বিগত ১১ হাজার বছরের যেকোন সময়ের চেয়ে গত শতাব্দীতে মহাসাগরগুলো দ্রুত উষ্ণ হয়েছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে গুতেরেস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তের নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকতে হবে। ফলে জলবায়ু ফান্ডের জন্য ১০০ বিলিয়ন অর্থ প্রদানের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ডে ঘূর্ণিঝড়ে চারজনের মৃত্যু
সবশেষ তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে এরইমধ্যে পাকিস্তানে খারাপ বন্যা পরিস্থিতি দেখা গেছে। এমতাবস্থায় আগামী কয়েক দশকে হিমালয়ের হিমবাহ হ্রাস পাবে, সিন্ধু, গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্র নদীগুলো সঙ্কুচিত হবে।
হিমালয়ের নদী অববাহিকায় বসবাসকারী কয়েক মিলিয়ন মানুষ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ উভয়ের প্রভাবের শিকার হবেন, যোগ করেন তিনি।
একাত্তর/আরএ