দক্ষিণ কোরিয়া ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ট্রানজিশনাল জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষার সাইট থেকে ভূগর্ভস্থ পানির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে আসতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, জাপান এবং চীনের লাখ লাখ মানুষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, উত্তর কোরিয়া ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে পার্বত্য উত্তর হামগিয়ং প্রদেশের পুংগি-রি সাইটে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্রের ছয়টি পরীক্ষা চালিয়েছিল।
ট্রানজিশনাল জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপের সমীক্ষায় দেখা গেছে, তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো সাইটটির কাছাকাছি আটটি শহর এবং কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যেখানে ১০ লাখেরও বেশি উত্তর কোরিয়ান বাস করে এবং যেখানে পানীয়সহ দৈনন্দিন জীবনে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হয়।
সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং জাপান আংশিকভাবে উত্তর কোরিয়া থেকে কৃষি ও মৎস্যজাত পণ্য নিয়ে থাকে, এ কারণে এসব দেশও ঝুঁকিতে রয়েছে।
২০১৪ সালে গঠিত এই দলটি (ট্রানজিশনাল জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ) পারমাণবিক ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সাথে কাজ করেছে। পাশপাশি গবেষণার জন্য ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এবং সর্বজনীনভাবে উপলব্ধ সরকার এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনগুলো ব্যবহার করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে অলাভজনক কর্পোরেশন ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি দ্বারা সমর্থিত।
গ্রুপের প্রধান হুবার্ট ইয়ং-হোয়ান লি বলেন, এই প্রতিবেদনটি এটা দেখানোর ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ যে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষাগুলো কেবল উত্তর কোরিয়ার জনগণেরই নয়, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর জীবন ও স্বাস্থ্যের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক মিশনে টেলিফোন করলে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
আরও পড়ুন: এক রাতে ৩২ বার কেঁপে উঠলো তুরস্ক
এর আগে ২০১৫ সালে, দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা আমদানি করা হেজহগ মাশরুমে তেজস্ক্রিয় সিজিয়াম আইসোটোপ শনাক্ত করে। যেগুলো চীনা পণ্য হিসাবে বিক্রি করা হয়েছিল, যদিও তাদের আসল উত্স ছিল উত্তর কোরিয়া।
এরইমধ্যে চীন এবং জাপান বিকিরণ নিরীক্ষণ বৃদ্ধি করেছে এবং উত্তরের পূর্ববর্তী পারমাণবিক পরীক্ষার পরে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিন্তু দূষিত খাদ্যের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য প্রদান করেনি।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই দূষিত পানি থেকে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু উত্তর কোরিয়া এই ধরনের উদ্বেগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, অতীতের পারমাণবিক পরীক্ষায় কোনো ক্ষতিকারক পদার্থ ছড়িয়ে পড়েনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৬ সাল থেকে ৮৮০ জনেরও বেশি উত্তর কোরিয়ান ওই অঞ্চল ছেড়ে পালিয়েছে।
আরও পড়ুন: বেদনা ও গর্ব নিয়ে দেশে-বিদেশে একুশ স্মরণ
সংগঠনটি পুংগি-রি-র আশেপাশের অঞ্চলে বিকিরণ ঝুঁকির বিষয়ে পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার এবং একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে সিউল এবং ওয়াশিংটন বলেছে, এসবের মধ্যেই পিয়ংইয়ং সপ্তম পারমাণবিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
একাত্তর/আরবিএস