যে বাঙ্কারে এক বছর ধরে আছেন জেলেনস্কি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এক বছর পার করে দ্বিতীয় বর্ষে পা দিলো মাত্র। এরই মধ্যে ধ্বংস হয়েছে ইউক্রেনের বহু সামরিক-বেসামরিক অবকাঠামো। নিরাপত্তার ভয়ে দেশটির বিভিন্ন স্থান থেকে পালিয়ে অন্য দেশে গিয়ে শরনার্থী হয়েছে লাখো ইউক্রেনীয় নাগরিক। 

অন্যদিকে রাশিয়ার সামরিক আক্রমণ মোকাবেলায় দিন রাতকে এক করেছেন ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। নিরাপত্তা আর প্রাণহানীর ঝুঁকি নিয়ে তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের হিসাব ছাড়া সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমারা। 

ইউক্রেনের প্রসিডেন্ট জেলেনস্কি প্রতিদিনই ভিডিও বার্তায় যুদ্ধ পরিস্থিতির খবর দেয়া ছাড়াও তার সামরিক বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধ শুরুর পর তাঁকে নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। থাকতে হচ্ছে সুরক্ষিত ও অতি গোপনীয় বাঙ্কারে। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ মহাদেশে সংঘটিত সবচেয়ে বড় এই যুদ্ধে একটি গোপন বাঙ্কারে থেকেই ইউক্রেনীয় সেনাদের সাহস যুগিয়ে যাচ্ছেন জেলেনস্কি। ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর পূর্ণ উপলক্ষে ‘ইয়ার’ শিরোনামে এক তথ্যচিত্রে সেই বাঙ্কারটিকে প্রথমবার প্রকাশ্যে এসেছে।

বিভিন্ন সময়ে ভিডিওবার্তায় জেলেনস্কির বাঙ্কারটির কিছু অংশ দেখা গেছে। তবে এবার তথ্যচিত্রে পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মেট্রোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাঙ্কারটিতে একটি সিঙ্ক, একটি বিছানা ও বেশ কয়েকটি শোপিস ছাড়া আর কিছু নেই।

তথ্যচিত্র নির্মাতা দিমিত্রো কোমারোভকে জেলেনস্কি বলেন, এটি আমার বাসা। যেখানে আমি এক বছর ধরে থাকছি। ফোনে জানতে পেরেছিলাম যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এরপরই আমি বাঙ্কারের উদ্দেশে রওনা হই। সেই থেকে এই ছোট্ট ঘরেই কাটছে আমার রাত। 

তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর খবর যখন আছে তখন সকাল। তিনি ও তার স্ত্রী জেগে উঠলেও ঘুমে ছিলো সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। তিনি দ্রুত নিরাপদ বাঙ্কারের যাবার পথ ধরেন। এক ঘন্টা পর তার সঙ্গে যোগ দেন স্ত্রী ও সন্তানরা। 

জেলেনস্কি যে বাঙ্কারে থেকে যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ করছেন সেখানে একটি টেলিফোন, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইস্টন চার্চিলের মূর্তি ও ছোট ছোট যুদ্ধবিমান ও ট্যাংকের মডেল দেখা গেছে। আর রয়েছে ছোট্ট একটি খাট। পরিবারের সদস্যরা বাঙ্কারের অন্য রুমে থাকেন।

জেলেনস্কি জানান, ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে রাশিয়া হামলার চালানোর পর তিনি বিশ্বের ২৭টি দেশের প্রধানকে ফোন দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমাকে বলা হয়েছিল সব গুছিয়ে নিতে। কারণ আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো। আমি আমার কথা ভাবিনি।

জেলেনস্কি তথ্যচিত্র নির্মাতাকে তার ওয়্যারড্রোবও দেখিয়েছেন। সেখানে বেশিরভাগ খাকি রংয়ের সোয়েটার ও জ্যাকেট দেখা গেছে। সেই সঙ্গে ছিল একটি নতুন স্যুটও। তিনি জানান, যুদ্ধ জয়ের পরদিনই তিনি সেই স্যুটটি পরবেন।


একাত্তর/এআর