আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অনুমোদন ছাড়া ফুকুশিমার পারমাণবিক বর্জ্যপানি সমুদ্রে না ফেলতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পরমাণু শক্তি সংস্থার উপ-পরিচালক লিউ চিং।
তিনি বলেন, জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বর্জ্যপানির সমুদ্রে নিষ্কাশন বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে। ফলে, এটা জাপানের একার বিষয় নয়।
লিউ চিং আরও বলেন, আইএইএ এখন পর্যন্ত তিনটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, জাপানের পারমাণবিক বর্জ্যপানি নিষ্পত্তি ও তদারকির পরিকল্পনা আইএইএ’র নিরাপত্তার মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব প্রতিবেদনে জাপানকে অনেক পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। অথচ জাপানি সরকার আইএইএ’র পরামর্শ এবং দেশি-বিদেশি আপত্তি উপেক্ষা করে পারমাণবিক বর্জ্যপানি সমুদ্রে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েই সামনে এগুচ্ছে।
আইএইএ’র সদস্যদেশ হিসেবেও জাপানের এ আচরণ দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে চিং বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগের সাথে এর ওপর গভীর দৃষ্টি রাখছে।
আরও পড়ুন: ঢাকায় বিস্ফোরণ: ঢামেকে ২০, বার্ন ইউনিটে ভর্তি ১১
এ কর্মকর্তা বলেন, চীন জাপানের পারমাণবিক বর্জ্যপানি নিষ্পত্তির বিষয়ে আইএইএ’র কাজকে সমর্থন করে এবং আশা করে যে, সংস্থাটি তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ন্যায্য অবস্থান বজায় রাখবে, বিভিন্ন পক্ষের মতামত শুনবে এবং কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন করবে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিআরআই জানায়, জাপানের ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্রটি ২০১১ সালের সুনামির পর বিকল হয়ে যায়। পরমাণু কেন্দ্রের ট্যাঙ্কগুলোতে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন পানি জমে আছে। এই পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে মুক্ত না করলে পারমাণবিক কেন্দ্রে জটিলতা দেখা দেবে। তবে এ পানি দূষিত হওয়ায় চীন ও জাপানের অন্য প্রতিবেশীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।