'ম্যাকমোহন লাইন'কে চীন ও অরুণাচল প্রদেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে একটি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এ প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে এই কথা জানিয়েছে মার্কিন সিনেট।
এর ফলে ভারত-চীন সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, মার্কিন সেনেটের এ প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হল ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধ ব্যাপক মাত্রায় উস্কে দিয়ে কোয়াড চুক্তির আওতায় চীনকে সবদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলা।
সংবাদসংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া বা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেনেটের একটি প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাষায় জানানো হয়েছে যে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অখণ্ড এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ। তা সত্ত্বেও চীন যেভাবে অরুণাচল সীমান্তে আগ্রাসী সামরিক পদক্ষেপ করছে, সে নীতিরও কড়া সমালোচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন সেনেটে সেই প্রস্তাব পেশ করেন সেনেটর বিল হ্যাগার্টি এবং সেনেটর জেফ মার্কলে।
মঙ্গলবার প্রস্তাবনা পেশের পর হ্যাগার্টি জানান, সেনেট যে দ্ব্যর্থহীনভাবে অরুণাচল প্রদেশকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে, তা এই প্রস্তাবনায় তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর চীন যে একতরফা ও আগ্রাসী সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, ওই প্রস্তাবনায় সে বিষয়েও সমালোচনা করা হয়েছে।
এমন একটা সময় সেনেটে ওই প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে, যখন পূর্ব লাদাখ সেক্টরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত এবং চীনের সীমান্ত সংঘাত তিন বছর পূর্ণ করতে চলেছে।
আরও পড়ুন: রমজানে পণ্যের দাম বাড়ানো অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ: প্রধানমন্ত্রী
এর আগে ২০২০ সালের এপ্রিল ও মে মাসে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত শুরু হয়। অরুণাচল প্রদেশকে বরাবরই নিজেদের দেশের অংশ বলে বরাবর দাবি করে আসছে বেইজিং। তবে চিনের সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি।
উল্লেখ্য, ভারত এবং চীনের মধ্যে যে সীমানা টানা হয়েছে, সেটা ম্যাকমোহন লাইন হিসেবে পরিচিত। স্যার হেনরি ম্যাকমোহনের নামে সেই নামকরণ করা হয়েছিল। ওই সীমানার দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৯০ কিলোমিটার।
একাত্তর/আরবিএস