কলম্বিয়ার তুষার আচ্ছাদিত নেভাদো দেল রুইজ আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে ধোঁয়া উড়ছে। আগ্নেয়গিরিটিতে অগ্নুৎপাত ঘটলে আশেপাশের ৫৭ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
মার্চের শেষ দিক থেকে আগ্নেয়গিরিটির দৈনিক কম্পনের সংখ্যা ৫০ থেকে ১২ হাজারে উন্নীত হলে সেখানে অগ্নুৎপাতের আশঙ্কা দেখা দেয়। লোকজনকে সরিয়ে নিতে সরকারের জরুরি আহ্বান সত্ত্বেও কলম্বিয়ান আন্দিজের নেভাদো দেল রুইজ আগ্নেয়গিরির পাদদেশে হাজার হাজার গ্রামবাসীকে ফসলের যত্ন নিতে এবং পশু পালনে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।
সরকার সতর্কতার মাত্রা হলুদ থেকে কমলা পর্যন্ত বাড়িয়েছে এবং আগ্নেয়গিরির পাদদেশে বসবাসকারী সাড়ে সাত হাজার মানুষকে অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে বিপজ্জনক অঞ্চলে বসবাসকারীদের অনেকই এলাকা ছেড়ে যেতে রাজি নয়।
প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা লুইস ফার্নান্দো ভেলাস্কো বলেন, ৫৭ হাজারের বেশি লোক এমন সব এলাকায় বাস করে যেগুলো অগ্নুৎপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে গ্রামবাসীদের কাছে গরু, ঘোড়া, ভেড়া, ছাগল এবং হাঁস-মুরগি থাকায় তারা সেগুলো চুরি যাওয়ার ভয়ে প্রতিরোধমূলক উচ্ছেদে রাজি নয়। সরকার বলেছে, আশপাশে ৮০ হাজার প্রাণীকে সরানোর ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে সহিংসতা বাড়ায় থাই সীমান্তে মানুষের ঢল
১৯৮৫ সালে এই অঞ্চলে নেভাদো দেল রুইজের একটি ভয়াবহ অগ্নুৎপাত ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছিল। ওই অগ্নুৎপাতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লাভার উদগীরণে আগ্নেয়গিরির তুষারের আচ্ছাদনের কিছু অংশ গলে যায় এবং কাদা, ছাই এবং পাথরের প্রচণ্ড প্রবাহ পাহাড়ের ধারে প্রবাহিত হয়ে আরমেরো শহরকে ঢেকে দেয়।
ওই অগ্নুৎপাতে ২৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এটি ছিল দেশটির স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ ধরণের আরেকটি ভয়াবহ অগ্নুৎপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
একাত্তর/এসজে