সুদানে ঈদের দিনেও লড়াই অব্যাহত, নিহতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়ালো

সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যকার লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৩,৫০০ মানুষ। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, দেশটিতে ৪১৩ জন মারা গেছে এবং ৩৫৫১ জন আহত হয়েছে। 

এদিকে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত ৯ শিশু নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, সুদানে শুক্রবার ঈদের দিনেও যুদ্ধরত বাহিনীগুলো দেশটির রাজধানীতে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রমজান মাসের শেষের দিকে যুদ্ধবিরতির জন্য বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিবর্গের আহবানকে উপেক্ষা করে তারা লড়াইয়ে লিপ্ত হলো। খার্তুমের বিভিন্ন এলাকায় বোমা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। 

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন উভয়ই মুসলিম প্রধান দেশ সুদানে ঈদুল ফিরত উপলক্ষে ‘কমপক্ষে’ তিন দিনের যুদ্ধবিরতি পালনের জন্য পৃথকভাবে আহ্বান জানান।

রাজধানী খার্তুমে টানা ছয়দিন ধরে বিস্ফোরণ ও বন্দুকযুদ্ধের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ। ভেঙে পড়েছে অনেক অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। 

সুদান চিকিৎসক কেন্দ্রীয় কমিটির দেওয়া এক বিৃতিতে বলা হয়, ঈদুল ফিতরের রাতে খার্তুমের বেশ কয়েকটি এলাকায় বোমাবর্ষণ করা হয় এবং সশস্ত্র বাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ চলছে।


বিৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমরা সকল নাগরিককে সতর্কতা অবলম্বনে, ঘরে থাকার এবং দরজা-জানালা বন্ধ করে শুয়ে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়া আমরা যুদ্ধরত সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল হওয়ার এবং নিরীহ মানুষের জীবন রক্ষার জন্য অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।

ব্লিঙ্কেনের মুখপাত্র শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুরহান ও ডাগলো উভয়ের সাথে আলাদাভাবে কথা বলে ‘নির্বিচার সংঘর্ষের নিন্দা জানিয়েছেন।' 

ব্লিঙ্কেন উভয় সামরিক নেতাকে দেশব্যাপী যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এবং ঈদের ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে টিকিয়ে রাখার আহ্বান জানান। সুদানে ঈদের ছুটি ২৩ এপ্রিল রোববার শেষ হবে।


একাত্তর/আরবিএস