ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের টার্গেট করে ইসরাইলের ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকির মুখে তেহরান তার অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। সোমবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেমির নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কমান্ডারদের হত্যাকাণ্ডে ইরানের সামরিক সংকল্প দমানো যাবে না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি তার লিখিত বিবৃতিতে নিহত জেনারেল মাজিদ খাদেমির কয়েক দশকের একনিষ্ঠ সেবার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইসলামি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এই গভীর শিকড়যুক্ত ফ্রন্টকে সন্ত্রাসবাদ বা অপরাধের মাধ্যমে টলানো সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুতে বাবা আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর মোজতাবা দায়িত্ব নিলেও এখনো জনসমক্ষে আসেননি। অন্যদিকে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ খাদেমির মৃত্যুর দায় স্বীকার করে তাকে হিজবুল্লাহ ও হামাসের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এছাড়া সোমবার ইসরাইলি বিমান বাহিনী আইআরজিসি’র কুদস ফোর্সের বিশেষ অপারেশন ইউনিটের কমান্ডার আসগর বাঘেরিকে ‘খতম’ করার দাবি করেছে, যদিও তেহরান এই বিষয়ে এখনো নীরব।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া মঙ্গলবার রাত ৮টার (ইউএস সময়) ডেডলাইন ঘনিয়ে আসায় ইরানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সাধারণ অবকাঠামোতে বোমা হামলা চালানো হবে।
এই হুমকির প্রতিবাদে ইরানের যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আলিরেজা রহিমি সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেশের তরুণ প্রজন্ম, শিল্পী এবং অ্যাথলেটদের প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার দুপুর ২টায় দেশের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারপাশে ‘মানবশৃঙ্খল’ তৈরির ডাক দিয়ে বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো একটি যুদ্ধাপরাধ, আমরা হাতে হাত রেখে তা বিশ্বকে জানিয়ে দেব।
ইরানি কর্তৃপক্ষের এই ‘মানবঢাল’ তৈরির আহ্বান আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা মনে করিয়ে দিয়েছে, ১৯৮০-র দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইরান শিশু সৈনিকদের ব্যবহার করেছিল, যেখানে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হয়।
সম্প্রতি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ১২ বছর বয়সী কিশোরদেরও ‘স্বেচ্ছাসেবক’ হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে সমালোচিত হচ্ছে।
একদিকে ইসরাইলের নিখুঁত লক্ষ্যভেদে একের পর এক শীর্ষ কমান্ডারের পতন, অন্যদিকে ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক আল্টিমেটাম, এই দ্বিমুখী চাপে ইরান এখন তার জনশক্তিকে ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহারের পথে হাঁটছে। মঙ্গলবার বিকালের এই মানবশৃঙ্খল কর্মসূচি এবং রাতের মার্কিন ডেডলাইন মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি-সিএনএন-মেহর নিউজ
শেষ মুহূর্তেও ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে আশাবাদি আমেরিকা
ইরানজুড়ে বিভিন্ন অবকাঠামোতে আমেরিকা ও ইসরাইলের ব্যাপক হামলা শুরু
খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মধ্য ইরানে সেতুতে হামলা