সুদানে দূত পাঠাচ্ছেন জাতিসংঘের মহাসচিব

সুদানে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবং এর ব্যাপক ফলাফলের কারণে অঞ্চলটি পরিদর্শনে যাচ্ছেন জাতিসংঘের শীর্ষ মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকতা মার্টিন গ্রিফিথস। 

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর এএফপি'র। 

গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, সুদানে যা উদ্ঘাটিত হচ্ছে তার মাত্রা এবং গতি নজিরবিহীন। আমরা সুদানের সমস্ত মানুষ এবং বৃহত্তর অঞ্চলের ওপর তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

গুতেরেসের মূখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, সুদানে দ্রুত অবনতিশীল মানবিক সংকটের আলোকে জাতিসংঘ প্রধান তার মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকতা মার্টিন গ্রিফিথসকে ‘অবিলম্বে’ ওই অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন।

এদিকে খার্তুম এবং দেশটির অন্যান্য অঞ্চলে সেনাবাহিনী এবং ভারি অস্ত্রে সজ্জিত আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে মারাত্মক যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ালো।

১৫ এপ্রিল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পাঁচশ’রও বেশি লোক নিহত হয়েছে এবং কয়েক হাজার লোককে দেশ বা বিদেশে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রোববারও সশস্ত্র সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে এবং সেইসাথে যুদ্ধ বিমানগুলো হামলা চালাচ্ছে। 

রোববার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, সুদানের আকাশসীমা ১৩মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে তবে সাহায্য এবং লোকজনকে সরানোর ফ্লাইট এ আওতার বাইরে থাকবে।

এর আগে সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং তার ডেপুটি মোহাম্মদ হামদান দাগালো, যিনি আরএসএফ-এর নেতৃত্ব দেন, তাদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ের পর শনিবার সহিংসতার সূত্রপাত হয়।

আরও পড়ুন: ওয়াসার ড্রেন খুঁড়তে গিয়ে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৯

২০২১ সালের অক্টোবরে একটি অভ্যুত্থানের পর থেকে সুদান পরিচালনা করছেন সামরিক জেনারেলরা। ডি ফ্যাক্টো নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের অনুগত সেনা ইউনিট এবং সুদানের ডেপুটি লিডার মোহাম্মদ হামদান দাগালোর নেতৃত্বে হেমেদতি নামে পরিচিত আরএসএফ-এর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

জেনারেল দাগালো বলেছেন, সমস্ত সেনা ঘাঁটি দখল না করা পর্যন্ত তার সৈন্যরা লড়াই চালিয়ে যাবে।

প্রতিক্রিয়ায় সুদানের সশস্ত্র বাহিনী ‘আধাসামরিক আরএসএফ বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত’ আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। 


একাত্তর/আরবিএস