প্রায় এক যুগ পরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সৌদি আরবে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে আল আরাবিয়া টিভি ও সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
শুক্রবার থেকে জেদ্দায় শুরু হওয়া আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার সেখানে পৌঁছেন বাশার আল-আসাদ। খবর: আল-জাজিরা।
২০১১ সালে আল-আসাদ ও তার সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নৃশংস দমন-পীড়ন চালায়। পরবর্তী সময়ে সিরিয়ায় বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটির সদস্যপদ স্থগিত করে আরব লীগ।
১১ বছরেরও বেশি সময় পর চলতি মাসে আরব বিশ্বের আঞ্চলিক সংস্থা আরব লীগে সিরিয়ার সদস্যপদ পুনর্বহাল করা হয়। তাই এবারে আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন আল-আসাদ।
প্রায় এক যুগ পর সৌদি আরবে আসাদের এই সফরকে আঞ্চলিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ আরব দেশগুলোর প্রচেষ্টার সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক সৌদি আরব আগে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় আল-আসাদ সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে লড়াই চালানো সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রধান সমর্থক ছিল।
গত কয়েক মাস ধরে সিরিয়ায় চলমান সংঘাতের অবসানে দেশটির সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে আসছে রিয়াদ। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এ সংঘাতে দেশটিতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে আর সিরিয়ার মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই ঘরছাড়া হয়েছেন।
আল-আসাদের সৈন্যরা তার প্রধান মিত্র রাশিয়া ও ইরানের সহায়তায় সিরিয়ার বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এ দুই মিত্রের কারণে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন আল-আসাদ।
আরও পড়ুন: রাশিয়াকে আরও কোণঠাসা করতে চায় জি-৭
২০০০ সালে আসাদের বাবা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল-আসাদ মারা যান। তার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন বাশার আল-আসাদ। তিনি ক্ষমতায় আসার পর সিরিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্ক অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। ২০১২ সালে দুই দেশের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। গত সপ্তাহে তারা পরস্পরের দূতাবাস পুনরায় চালু করতে সম্মত হয়।
একাত্তর/জো