উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে মার্কিন 'সাম্রাজ্যবাদ' বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে 'প্রতিশোধের যুদ্ধ' শুরুর ডাক দিয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কোরীয় যুদ্ধ শুরুর ৭৩তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সোমবার এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার ছাত্র ও শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।
কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, একটি বিশাল স্টেডিয়াম ভর্তি মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী স্লোগান দিচ্ছে। এসময় তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল 'আমেরিকার মূল ভূখণ্ড আমাদের পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে' এবং 'সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা সব অশান্তির মূল কারণ।'
সংস্থাটি বলছে, সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্রকে থামানোর মতো শক্তিশালী অস্ত্র এখন উত্তর কোরিয়ার হাতে রয়েছে।
এদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাদা এক বিবৃতিতে বলেছে, একটি পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বেপরোয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা
১৯৫০ সালের ২৫ জুন শুরু হওয়া কোরীয় যুদ্ধ শেষ হয়েছিল ১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে এ যুদ্ধ চলেছিল। ২৫ লাখেরও বেশি বেসামরিক মানুষ এই যুদ্ধের ফলে হতাহত হয়েছিল।
যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, আর দক্ষিণ কোরিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা। যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধকে সমাজতন্ত্রের আগ্রাসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছিল। সেসময় অনেকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা করেছিল। কিন্তু জতিসংঘের হস্তক্ষেপে ১৯৫৩ সালে আর্মেস্টিক চুক্তির মাধ্যমে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। রাশিয়া সরে আসলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনও দক্ষিণ কোরিয়াকে বিভিন্নভাবে সামরিক সহয়তা দিয়ে আসছে।
একাত্তর/আরবিএস