ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে একটি জঙ্গলে মাটির নিচে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার আটটি ব্রিটিশ হারিকেন ফাইটার প্লেনের মরচে পড়া ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। ১৯৪১ সালে নাৎসি জার্মানি দেশটিতে আক্রমণ করার পরে ব্রিটেন সোভিয়েত ইউনিয়নে বিমানগুলো প্রেরণ করেছিল।
এগুলো ইউএসএসআর-এর জন্য মিত্র সামরিক সহায়তার প্যাকেজের অংশ ছিল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথাকথিত লেন্ড-লিজ প্রকল্পের অধীনে দিয়েছিল।
ইউক্রেনে সামরিক সাহায্য পাঠাতে মার্কিন সরকার বর্তমানে একই ধরনের আইন ব্যবহার করছে, কারণ তারা দেশটি থেকে রাশিয়ান বাহিনীকে বিতাড়িত করতে চায়।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনে এত হারিকেনের ধ্বংসাবশেষ এই প্রথম পাওয়া গেল।
খননকাজের নেতৃত্ব দেয়া সাবেক এয়ারলাইন পাইলট ওলেক্স শতান বলেন, ‘ইউক্রেনে এই বিমানটি পাওয়া খুবই বিরল। এটি আমাদের বিমান চলাচলের ইতিহাসের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানে আগে কোনো লেন্ড-লিজ বিমান পাওয়া যায়নি।’
১৯৪০ সালে যুক্তরাজ্যে আক্রমণ করার জার্মান প্রচেষ্টাকে পরাজিত করায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের হকার হারিকেন যুদ্ধবিমান। যুদ্ধের সময় অর্ধেকেরও বেশি শত্রু বিমান ভূপাতিত করেছিলো এগুলো।
শতান বলেন, হারিকেন শক্তিশালী এবং ওড়াতে সহজ মেশিন ছিল। এটি বন্দুকের প্ল্যাটফর্ম হিসাবে স্থিতিশীল এবং অনভিজ্ঞ পাইলটদের জন্য উপযুক্ত। একটি নির্ভরযোগ্য বিমান।
সোভিয়েত যুদ্ধের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য ১৯৪১ থেকে ১৯৪৪ সালের মধ্যে ইউএসএসআর-এ প্রায় তিন হাজার হারিকেন পাঠানো হয়েছিল। বেশিরভাগই হয় যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যায় বা পরে ভেঙে ফেলা হয়।
তবে কিছু হারিকেন ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছিল এবং যুদ্ধের পরে কবর দেওয়া হয়েছিল, যাতে সেগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত দিতে না হয়।
লেন্ড-লিজ আইনের অধীনে, ইউএসএসআরকে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর অক্ষত থাকা যেকোনো দান করা সামরিক সরঞ্জামের জন্য অর্থ প্রদান করতে হবে।
এই আটটি হারিকেনকে কিয়েভের দক্ষিণে বনভূমিতে সমাহিত করা হয়। কিয়েভ এখন স্বাধীন ইউক্রেনের রাজধানী হলেও, ১৯৯১ সাল পর্যন্ত এটি ছিল ইউএসএসআর-এর অংশ।
যুদ্ধের সময় একটি অবিস্ফোরিত বোমা কাছাকাছি পাওয়া যাওয়ার পরে ধ্বংসাবশেষগুলো সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়। মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করে গিরিখাতের বাকি অংশ চেক করার পর হারিকেনগুলো পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার দাবি সিরিয়ার
ইউক্রেনের ন্যাশনাল এভিয়েশন মিউজিয়াম এখন শ্রমসাধ্যভাবে হাত দিয়ে জায়গাটি খনন করছে। সেখানকার কর্মীদের লক্ষ্য যত বেশি সম্ভব বিমানকে শনাক্ত করা, যাতে সেগুলোকে পুনরায় একত্রিত করা যায় এবং প্রদর্শন করা যায়।
মনে করা হয়, বর্তমানে পৃথিবীতে মাত্র ১৪টি পুনরুদ্ধার করা হারিকেন রয়েছে যেগুলো উড়তে সক্ষম।
একাত্তর/এসজে