ফ্রান্সজুড়ে দাঙ্গা-বিক্ষোভের তীব্রতা কমলেও থামেনি

ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের পঞ্চম দিনে রাজধানী প্যারিসের এক মেয়রের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। এরই মধ্যে আটক করা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ জনকে। দাঙ্গার বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে এক সমাবেশের ডাক দিয়েছে সরকার। 

টানা ছয় দিন ধরে বিক্ষোভে উত্তাল রয়েছে ফ্রান্স। ক্রমেই বিক্ষোভ আরও জোরালো হচ্ছে। শহরে শহরে চলছে পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ। ভাঙচুর ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রাজধানীসহ সারা দেশ থেকে ৭১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভে সংঘর্ষ চলাকালীন প্রায় ৪৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এছাড়া ৭৪ ভবন ও রাস্তাসহ ৮৭১ জায়গায় আগুন দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এছাড়া ২০টিরও বেশি পুলিশ স্টেশনে তারা হামলা চালান।

পঞ্চম দিনের মতো ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মার্সেইতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। রোববার রাতে যা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ এড়াতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেও হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ।

পরিস্থিতি বিবেচনায় রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া জার্মানি সফর বাতিল করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রো। ২০১৮ সালের শেষের দিকে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বিক্ষোভের পর শাসনকালের সবচেয়ে বড় সংকট মোকাবিলায় তিনি এমন ব্যবস্থা নিয়েছেন।

এদিকে, প্যারিসের শহরতলির মেয়র ভিনসেন্ট জিনব্রানের বাসভবনে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় জরুরি বৈঠকে বাড়ির বাইরে ছিলেন তিনি। সে সময় বাড়িতে দুই সন্তানকে নিয়ে তার স্ত্রী ছিলেন। রাতে একদল বিক্ষোভকারী বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। 

এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও সন্তানেরা ভবন থেকে বেরিয়ে পালাতে গিয়ে আহত হয়েছেন। মেয়র বলেন, আগের দুই দিনের মতোই রাত দেড়টার দিকে টাউন হলে ছিলাম আমি। বিক্ষোভকারীরা আমার বাড়িতে অভিযান চালায়। স্ত্রী, সন্তানদের ঘুমন্ত অবস্থায় বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা।

মেয়রের বাড়িতে এমন হত্যা চেষ্টার তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রসিকিউটর। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত ফ্রান্সের শহর ও নগরগুলোর ২২০ জন মেয়র ও পার্লামেন্টের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের ইমানুয়েল ম্যাক্রো । 

এই পরিস্থিতিতে দেশে দাঙ্গা-সহিংসতা বন্ধ করে সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের গুলিতে নিহত আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত মুসলিম কিশোর নাহেল এমের দাদি। তিনি বলেন, যারা আইন ভাঙছেন, ভাঙচুর চালাচ্ছেন, আমি তাদের বলছি এটা বন্ধ করুন।

তবে নাহেলের পরিবারের দাবি, ফরাসি পুলিশের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নীতি বদলাতে হবে। বিক্ষোভকারীদের মতে, বর্ণবাদমূলক আচরণ থেকেই ওই পুলিশ তাকে সরাসরি গুলি করে। নাহেলের পরিবারের সদস্যরা আলজেরিয়া থেকে গিয়ে ফ্রান্সে স্থায়ী হয়েছেন। 

এদিকে, সোমবার ফ্রান্সে পুলিশের গুলিতে নিহত ১৭ বছর বয়সী কিশোর নাহেলের শেষকৃত্য শেষ হয়েছে। ফ্রান্সের নান্টেরে নিহত নাহেলকে গুলি করার স্থানে তার বন্ধুবান্ধব ও পরিবাররের সদস্যরা নাহেলের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শেষ প্রার্থনায় যোগ দেয়। তবে ফ্রান্সে থামেনি জনতার বিক্ষোভ, ন্যায় বিচার না পাওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে চায় তারা।

একাত্তর/এআর