তাজমহল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে যমুনার পানি

ভারতের উত্তর প্রদেশে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছে গেছে আগ্রার তাজমহল পর্যন্ত। সীমানা দেয়াল পর্যন্ত পানি চলে আসায় আইকনিক এই ভবনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  

মঙ্গলবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১ জুন বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, ফলে যমুনা নদীর পানির স্তর বেড়ে গেছে। 

ভারতের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন (সিডব্লিউসি) বলছে, তাজমহলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনার নদীর অংশের পানির উচ্চতা মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ১৫২ মিটারে পৌঁছেছে। ওই স্থানে পানির উচ্চতা ১৫২ দশমিক ৪ মিটারের বেশি হলে তা বিপজ্জনক বলে ধরা হয়। 

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শেষবার এই স্মৃতিস্তম্ভের দেয়াল পর্যন্ত পানি পৌঁছেছিল ৪৫ বছর আগে, ১৯৭৮ সালে। 

সিডব্লিউসির তথ্য অনুসারে, তাজমহলের কাছে অবস্থিত তাদের স্টেশনটি সেই বছর পানির সর্বোচ্চ স্তর রেকর্ড করেছিল ১৫৪ দশমিক ৭৬ মিটার।

মঙ্গলবার বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, তাজমহলের লাল বেলেপাথরের সীমানা প্রাচীরের চারপাশ ঘোলা পানি দিয়ে ঘেরা, আর তাতে আবর্জনার ভাসছে। দূর থেকে উঁকি দিচ্ছে সমাধিসৌধটি। 


তাজমহলসহ ভারতের অন্যান্য স্মৃতিস্তম্ভের তত্ত্বাবধানে থাকা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (এএসআই) কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে স্মৃতিস্তম্ভটি নিয়ে ‘কোনও গুরুতর উদ্বেগ’ নেই।

এএসআইর সুপারিন্টেনডেন্ট প্রত্নতত্ত্ববিদ রাজ কুমার প্যাটেল বলেন, ‘যদি আরও বৃষ্টি হয়, বা কিছু দিনের জন্য পানি এত বেশি থাকে, আমাদের আবার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে’। 

যমুনার তীরের কাছাকাছি তাজমহলের আশেপাশে অবস্থিত বেশ কয়েকটি অন্যান্য স্মৃতিস্তম্ভ এবং উদ্যান ‘নিমজ্জিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে বলেও তিনি জানান। এর মধ্যে রয়েছে সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত ইতিমাদ-উদ-দৌলার সমাধি, যা ‘বেবি তাজ’ বলে পরিচিত। একই সময়ে নির্মিত মেহতাব বাগের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাগান এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

তবে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যটকদের তাজমহলের গেট দিয়ে ঢুকতে দেখা যায়। 

সুইজারল্যান্ড থেকে আসা ২০ বছর বয়সী ছাত্র ম্যাথু ক্রেটন বলেন, ‘পানি এত উপরে উঠে যাওয়া দেখতে অদ্ভুত হলেও, তাজমহল দেখতে সুন্দর ছিল’।

আরও পড়ুন: বাড়বে তাপপ্রবাহ, বিশ্বকে প্রস্তুত থাকতে বললো জাতিসংঘ

অন্যদিকে, নদীর পানি তাদের বাড়িঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

মন্দিরের কাছে বসবাসকারী সুন্দর দুবে (৪৯) বলেন, ‘আমরা আমাদের জিনিসপত্র উপরে রেখেছি যাতে সেগুলো ভেসে না যায়। সেইসঙ্গে আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি’।


একাত্তর/এসজে