বিশ্বকে ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলেছে জাতিসংঘ। উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে প্রতিনিয়ত তাপমাত্রা বাড়ছে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে।
মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএমও) এক্সট্রিম হিট উপদেষ্টা জন নারিন বলেন, তাপমাত্রা তীব্রতার সাথে বাড়তে থাকবে এবং বিশ্বকে আরও তীব্র তাপপ্রবাহের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৮০ সালের পর থেকে উত্তর গোলার্ধে তাপপ্রবাহ ছয়গুণ বেড়েছে। আপাতত এই প্রবণতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এ ঘটনা মানুষের জীবিকা এবং স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, 'সুতরাং আমরা এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, আমি ভয় পাচ্ছি।'

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এরইমধ্যে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশে জারি করা হয়েছে স্বাস্থ্য সতর্কতা।
বেইজিংয়ে ২৩ বছরের ইতিহাস ভেঙে গত সাতদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।
গ্রিস ও কেনারি দ্বীপে অগ্নিনির্বাপক সদস্যরা দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে রেড এলার্ট জারি করেছে স্পেন।
এদিকে ইতালির সারদিনিয়া ও সিসিলি দ্বীপে তাপমাত্রা ৪৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
গত সোমবার ইরানে ৬৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বুশেহেরের আসালুয়েহ জেলার পার্সিয়ান গালফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় দুপুর ১২টায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএস স্টর্মওয়াচের কর্মকর্তা কলিন ম্যাকার্থি এক টুইট বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ লোককে তীব্র তাপমাত্রা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। টেক্সাসের সান এঞ্জেলো শহরে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে বলে আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে আগালো বাংলাদেশ
ফ্রান্সের জলবায়ু বিষয়ক ইন্সস্টিটিউট পিয়েরে সিমন লাপেলেসের পরিচালক রবার্ট ভটার্ড বলেছেন, ইউরোপ ও বিশ্বজুড়ে চলা এই তাপদাহ কেবল একটি কারণে নয়, এর পিছে একাধিক বিষয় রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনই মূল কারণ।
একাত্তর/আরবিএস
