২০ বছরে প্রথমবার নারী বন্দীর ফাঁসি দিতে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর

২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সিঙ্গাপুরে একজন নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার আইনজীবীরা।

সিঙ্গাপুরের নাগরিক সারিদেউই জামানি (৪৫) ২০১৮ সালে ৩০ গ্রাম হেরোইন পাচারের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

মোহাম্মদ আজিজ বিন হুসেনের পরে সারিদেউই দ্বিতীয় মাদক অপরাধী, রায় দেয়া তিনদিনের মধ্যে যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

সিঙ্গাপুরে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন মাদকবিরোধী আইন রয়েছে। এসব আইন সমাজকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হয় সে দেশে।

আজিজ ৫০ গ্রাম হেরোইন পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। সিঙ্গাপুরের আইন অনুসারে, ১৫ গ্রামের বেশি হেরোইন এবং ৫০০ গ্রামের বেশি গাঁজা পাচারের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যেতে পারে।

সিঙ্গাপুরের সেন্ট্রাল নারকোটিক্স ব্যুরো (সিএনবি) বলেছে, আজিজের বিচারে ‘সম্পূর্ণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করা হয়েছে। আজিজের দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং সাজার বিরুদ্ধে তার করা আপিল ২০১৮ সালে খারিজ করা হয়েছিল।

এপ্রিল মাসে, সিঙ্গাপুরের তাঙ্গারাজু সুপিয়াহকে এক কেজি গাঁজা পাচারের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনি ওই মাদক কখনও স্পর্শ করেননি। কর্তৃপক্ষ বলছে, তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন। 

সিএনবি সারিদেউই জামানির মামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

ব্রিটিশ ধনকুবের স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন আবারও সিঙ্গাপুরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সমালোচনা করে বলেন, মৃত্যুদণ্ড দিয়ে এই অপরাধ বন্ধ করা যাবেনা। ছোট আকারের মাদক পাচারকারীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ বেশিরভাগই তাদের পরিস্থিতির কারণে এই কাজ করে। 

তিনি এক টুইটবার্তায় বলেন, সারিদেউই জামানির মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার সময় এখনও রয়েছে। 

সিঙ্গাপুরভিত্তিক মানবাধিকার গোষ্ঠী ট্রান্সফরমেটিভ জাস্টিস কালেক্টিভের মতে, জামানি সিঙ্গাপুরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই নারীর একজন। ২০০৪ সালে হেয়ারড্রেসার ইয়েন মে উয়েনের পর তিনিই হবেন দেশটি কর্তৃক মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা প্রথম নারী। ইয়েনও মাদক পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, সারিদেউই তার বিচারের সময় সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি রমজান মাসে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য হেরোইন মজুত করেছিলেন। তবে তিনি তার ফ্ল্যাট থেকে হেরোইন এবং মেথামফেটামিনের মতো মাদক বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, তিনি এসব কার্যকলাপের মাত্রা কমিয়ে দিয়েছেন।

এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের যুক্তি, কঠোর মাদক আইন সিঙ্গাপুরকে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ স্থান হিসাবে রাখতে সাহায্য করে। মাদক অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। 

কিন্তু মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আইনজীবীরা তা অস্বীকার করেন। 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের চিয়ারা সাঙ্গিওর্জিও এক বিবৃতিতে বলেন, মৃত্যুদণ্ডের একটি বিশেষ প্রভাব রয়েছে বা এটি মাদকের ব্যবহার এবং প্রাপ্যতার উপর কোন প্রভাব ফেলেছে এমন কোনও প্রমাণ নেই।

তিনি আরও বলেন, এই মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে একমাত্র বার্তা পাওয়া যায় তা হচ্ছে সিঙ্গাপুর সরকার আবারও মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে অস্বীকার করছে। 

আরও পড়ুন : নাইজার প্রেসিডেন্টকে মুক্তি দেয়ার আহবান যুক্তরাষ্ট্রের

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উল্লেখ করে, চীন, ইরান এবং সৌদি আরবের পাশাপাশি, সিঙ্গাপুরে সম্প্রতি মাদক সংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।


একাত্তর/পিএজে