নাইজারে একটি নাটকীয় অভ্যুত্থানের পর নিজেকে দেশটির নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড ইউনিটের প্রধান জেনারেল আবদুরাহমানে চিয়ানি।
শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি এই ঘোষণা দিয়ে বলেন, তিনি ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দ্য সেফগার্ড অব দ্য হোমল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট’।
এর আগে, বুধবার ওমর চিয়ানি নামে পরিচিত এই জেনারেলের নেতৃত্বে প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড ইউনিট দেশটির প্রেসিডেন্টকে ধরে নিয়ে যায়।
এই ঘটনায় ১৯৬০ সালে স্বাধীনতার পর নাইজারের প্রথম শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক ক্ষমতার পরিবর্তন ধূলিসাৎ হয়ে গেলো।
প্রেসিডেন্ট মোহামেদ বাজুম সুস্থ আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তিনি এখনও তার নিজের রক্ষীদের হাতে বন্দী।
আফ্রিকান ইউনিয়ন, পশ্চিম আফ্রিকান আঞ্চলিক ব্লক (ইকোওয়াস), ইইউ এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গোষ্ঠী এই অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছে।
৬২ বছর বয়সী জেনারেল চিয়ানি ২০১১ সাল থেকে প্রেসিডেন্টের গার্ডের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মহামাদু ইসুফো তাকে জেনারেল পদে উন্নীত করেন।
২০২১ সালে মোহামেদ বাজুম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার কয়েকদিন আগে চিয়ানি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার নাইজারের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল আমাদু আবদরমানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বার্তায় বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং খারাপ শাসনের কারণে সরকারের অবসান ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে’।
আরও পড়ুন: টাইফুন ডকসুরির আঘাতে লণ্ডভণ্ড চীন
তিনি বলেন, নাইজারের সীমান্ত বন্ধ, দেশব্যাপী কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে এবং প্রজাতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। সৈন্যরা যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা বাজুমের সুস্থতাকে সম্মান করবেন।
একাত্তর/এসজে