চীনের দক্ষিণ-পূর্ব ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হেনেছে টাইফুন ডকসুরি। টাইফুনের আঘাতে প্রবল বৃষ্টি এবং তীব্র বাতাসের বেগে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং গাছপালা আগুনে পুড়ে গেছে।
২০১৬ সালে প্রাণঘাতী টাইফুন মেরান্টির পরে ফুজিয়ানে আঘাত হানা দ্বিতীয় শক্তিশালী টাইফুন হচ্ছে ডকসুরি। যার ফলে এই প্রদেশের স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কারখানা ও শপিং মলগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে।
এছাড়াও অফশোর তেল ও গ্যাসক্ষেত্র থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
চীনের আবহাওয়া প্রশাসন (সিএমএ) অনুসারে, শুক্রবার জিয়ামেন, কোয়ানঝো এবং পুটিয়ানে প্রতি ঘণ্টায় ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাতে জিয়ামেনের এক বাসিন্দা বলেছেন, পুরো জিয়ামেনের কেউ সকালে কাজে যায়নি। রাস্তায় কোনও গাড়ি নেই, এবং কারখানা এবং শপিংমলগুলো বন্ধ রয়েছে।
সেখানের বাসিন্দারা আরও জানিয়েছেন, ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং সিটি এবং কোয়ানঝৌ-এর কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
আবহাওয়াবীদরা ভবিষ্যদ্বাণী করছেন, ডকসুরির প্রভাবে চীনের ১০টি প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাত হবে।
চীনের সিএমএ বলেছে, টাইফুনটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে তীব্রতার সাথে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
টাইফুন ডকসুরি ইতোমধ্যে ফিলিপাইন থেকে সরে দক্ষিণ তাইওয়ানজুড়ে আঘাত হেনেছে এবং পথে তাণ্ডব চালিয়ে মৃত্যু এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
তাইওয়ানের আবহাওয়া ব্যুরো ডকসুরিকে দ্বিতীয় শক্তিশালী স্তরের টাইফুন হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছেন।
তাইওয়ানের পেঙ্গু এবং কিনমেন দ্বীপপুঞ্জে 'হারিকেন-ফোর্স-ওয়াইন্ড' সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যেখানে বাসিন্দাদের ঘন্টায় ১৫৫ কিলোমিটারের বেশি দমকা হাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
ঝড়টিতে তাইওয়ানজুড়ে দুই লাখ ৭৮ হাজারেরও বেশি বাড়ি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং কাওশিউংয়ে শত শত গাছ ভেঙে পড়েছে।
দ্বীপের পূর্ব এবং দক্ষিণ অংশে পার্বত্য এলাকায় এক হাজার মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তাইওয়ানে শুক্রবার ২০০টিরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত বা বিলম্বিত হয়েছে। দক্ষিণ ও পূর্ব তাইওয়ানের রেল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার কাছে প্রবল বাতাসে আতঙ্কিত যাত্রীরা একটি জাহাজের একপাশে ছুটে এসে যাওয়ার কারণে ফেরি উল্টে জাহাজটি ডুবে যায়। এই দুর্ঘটনায় ২৬ জন মারা গেছেন।
আরও পড়ুন : গ্রিসে দাবানলের আগুনে বিমানঘাঁটিতে বিস্ফোরণ
ফিলিপাইনের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, রাজধানীর কাছে একটি হ্রদে এই যাত্রীবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ায় তারা এটির তদন্ত করবে ।
এ দুর্ঘটনায় কর্তৃপক্ষ ৪০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। কোস্টগার্ড বলেছে, এই জাহাজে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছিলো।
একাত্তর/পিএজে
