যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলে মৃতের সংখ্যা ৮০ জনে পৌঁছেছে। দাবানল কীভাবে এতো অল্প সময়ের মধ্যে এতো বিধ্বংসী হয়ে উঠলো তা নিয়ে তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর: রয়টার্স।
ঐতিহাসিক রিসোর্ট টাউন লাহাইতে এই দাবানলের তাণ্ডবের ফলে এটি ইতোমধ্যে রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। এর আগে, ১৯৬০ সালের সুনামিতে রাজ্যটিতে ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।
কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া এক হাজার ভবন থেকে এখনও মরদেহ বেরিয়ে আসতে পারে। গৃহহীন হওয়া হাজার হাজার মানুষের পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পুনর্নির্মাণ করতে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।
হাওয়াইয়ের মার্কিন সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ বলেছেন, এই সমস্ত পুড়ে যাওয়া কাঠামোর মধ্যে এখনও কেউ প্রবেশ করেনি এবং সেখানেই দুর্ভাগ্যবশত মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে মাউই কাউন্টি বলে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে।
পশ্চিম মাউইতে, যেখানে লাহাইনা এবং কানাপালি অবস্থিত, এখনও বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অনুসন্ধান কর্মীরা এখনও সেসব এলাকায় দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের সন্ধান করছেন।
এমনকি, সাগরেও উদ্ধার অনুসন্ধান চলছে। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত শহরের বন্দর থেকে ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। সকলের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
ব্রাশ থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়া লাহাইনা আগুন এখনও জ্বললেও, ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে কাউন্টি আগে জানিয়েছিল। দ্বীপের অন্য দুটি দাবানল ৮০ শতাংশ এবং ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিপর্যয়ের তিন দিন পরও এটি স্পষ্ট নয় যে কিছু বাসিন্দা তাদের বাড়িতে আগুন লাগানোর আগে কোনও সতর্কতা পেয়েছিলেন কিনা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অন্যান্য হুমকির বিষয়ে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে দ্বীপটিতে জরুরী সাইরেন রয়েছে, কিন্তু আগুনের সময় সেগুলো বেজেছে বলে মনে হয়নি।
হাওয়াইয়ের গভর্নর জশ গ্রিন সতর্কীকরণ সাইরেনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ঠিক কী এবং কখন ঘটেছে তা জানতে আমি আজ সকালে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা অনুমোদন করেছি’।
সুনির্দিষ্টভাবে কী কী বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছিল এবং সেগুলো পাঠ্য বার্তা, ইমেইল বা ফোনকলের মাধ্যমে করা হয়েছিল কিনা তার কোনও বিশদ বিবরণ কর্মকর্তারা দেননি।
মাউই কাউন্টি ফায়ার চিফ ব্র্যাডফোর্ড ভেনচুরা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগুনের গতির কারণে সামনের সারির প্রতিক্রিয়াকারীদের জন্য জরুরি ব্যবস্থাপনার কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা ‘প্রায় অসম্ভব’ হয়ে পড়ে, যারা সাধারণত উচ্ছেদের ব্যাপারে রিয়েল-টাইম আদেশ দেন।
মঙ্গলবার মধ্যরাতের পরপরই বিপর্যয় শুরু হয়, যখন লাহাইনা থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দূরে কুলা শহরে একটি ব্রাশ ফায়ারের খবর পাওয়া যায়। বাসিন্দাদের মতে, এর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর লাহাইনায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সেই সকালে ফেসবুকে পোস্ট করা আপডেটে মাউই কাউন্টি বলে, কুলা আগুন শত শত একর চারণভূমিকে গ্রাস করেছে, কিন্তু লাহাইনাতে একটি ছোট তিন-একরের ব্রাশ ফায়ার নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
তবে বিকেল নাগাদ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কাউন্টির হালনাগাদ অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে লাহাইনার আগুন হঠাৎ জ্বলে ওঠে। শহরের পশ্চিম দিকে হোটেলের অতিথিসহ লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হলে কিছু বাসিন্দা সরে যেতে শুরু করে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে পাকিস্তানের ভাগ্যে কী রয়েছে
পরবর্তী কয়েকঘণ্টায় আগুন শহরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়লে কাউন্টি ফেসবুকে একের পর এক উচ্ছেদ আদেশ পোস্ট করতে থাকে।
একাত্তর/এসজে