সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবের অভিযোগ তুলে গ্যাবনের ক্ষমতা দখল করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির একদল সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা।
বুধবার ভোরে জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল গ্যাবন২৪-এ উপস্থিত হয়ে তারা বলেন, তারা নির্বাচন বাতিল করেছেন, সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিয়েছেন এবং দেশের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছেন।
কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, তারা গ্যাবনের সমস্ত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করছেন।
শনিবারের বিতর্কিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট আলি বোঙ্গো ওন্দিম্বা তৃতীয় মেয়াদে জয়ী হন বলে ঘোষণা দেয় জাতীয় নির্বাচনী সংস্থা। আর এর কিছুক্ষণ পরই এই ঘোষণা আসে।
‘গ্যাবোনিজ জনগণের নামে...আমরা বর্তমান শাসনের অবসান ঘটিয়ে শান্তি রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি’, কর্মকর্তারা বলেন।
গ্যাবোনিজ ইলেকশন সেন্টার বলেছে, বঙ্গোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আলবার্ট ওন্ডো ওসা ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, যেখানে বোঙ্গো পেয়েছেন ৬৪ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোট।
শনিবার ইন্টারনেট সংযোগ স্থগিত ও কারফিউ জারির পর বিরোধী শিবির বলে, নির্বাচনটি ‘আলি বোঙ্গো এবং তার সমর্থকদের দ্বারা সংগঠিত একটি জালিয়াতি’ ছিলো।
‘বর্তমান সাধারণ নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত...বস্তুনিষ্ঠতা এবং ভারসাম্যের অভাবের’ অভিযোগে ফরাসি মিডিয়া আউটলেট ফ্রান্স ২৪, আরএফআই এবং টিভি ৫ মন্ডকেও নিষিদ্ধ করে সরকার।
বঙ্গো গ্যাবোনিজ ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিজি) প্রার্থী ছিলেন, যে দলটি তার পিতা ওমর বোঙ্গো দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি ১৯৬৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত শক্ত হাতে গ্যাবন শাসন করেন।
ওমর বোঙ্গোর মৃত্যুর পর তার ছেলে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার স্থান গ্রহণ করেন এবং তখন থেকেই ক্ষমতায় আছেন।
সামরিক কর্মকর্তাদের এই ঘোষণার পর রয়টার্স এবং এএফপিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো রাজধানী লিব্রেভিলে গুলির শব্দের খবর দিয়েছে।
পরিবর্তনের জন্য বিরোধীদের চাপ এবং গ্যাবনে বোঙ্গো পরিবারের আধিপত্যের অবসানের দাবি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।