আফ্রিকা সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে বুধবার ক্যামেরুনের মাটিতে পা রাখলেন পোপ লিও। চার দেশের এই উচ্চাভিলাষী ১০ দিনের সফরে পোপের মূল লক্ষ্য ক্যামেরুনের ইংরেজিভাষী অঞ্চলগুলোতে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে শান্তির আহ্বান জানানো।
তবে পোপের এই সফরের চেয়েও বেশি চর্চিত হচ্ছে তার সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান 'বাকযুদ্ধ'। ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করায় পোপ লিওকে আবারও কড়া ভাষায় বিধেঁছেন ট্রাম্প। পোপের শান্তিবাদী অবস্থানকে 'ভয়াবহ' বলে আখ্যা দিলেও দমে যাওয়ার পাত্র নন শিকাগো থেকে আসা এই ধর্মগুরু।

আলজেরিয়া ত্যাগের আগে তিনি তথাকথিত 'নব্য-ঔপনিবেশিক' বিশ্বশক্তিগুলোর আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সোজা জানিয়েছেন, ট্রাম্প যাই বলুক না কেন, যুদ্ধের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠস্বর আগের মতোই সোচ্চার থাকবে।
ক্যামেরুনের ইতিহাস বেশ জটিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্রাক্তন এই জার্মান উপনিবেশটিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্স নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিল। গত এক দশকে সরকারি বাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর লড়াইয়ে দেশটিতে হাজার হাজার প্রাণ ঝরেছে। পোপের আগমন উপলক্ষে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী জোট তিন দিনের জন্য 'নিরাপদ যাতায়াত পথ' ঘোষণা করেছে, যাতে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা অবাধে চলাচল করতে পারে।
৭০ বছর বয়সী পোপ লিও তার পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর গত বছরের মে মাসে দায়িত্ব নেন। প্রথম ১০ মাস পর্দার আড়ালে থাকলেও ইদানীং তিনি বিশ্ব রাজনীতির নানা ইস্যুতে বেশ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে তার অবস্থান তাকে ট্রাম্পের চক্ষুশূলে পরিণত করেছে।

প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটারের এই দীর্ঘ ও জটিল সফরে পোপকে ১৮টি ফ্লাইটে ১১টি শহর ঘুরতে হবে। ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াওন্দেতে প্রেসিডেন্ট পল বিয়ার সাথে সাক্ষাতের পর বৃহস্পতিবার তিনি বামেন্দা শহরে একটি শান্তি সভায় যোগ দেবেন।
তবে, সফরের সবচেয়ে বড় চমক থাকছে শুক্রবার, যখন উপকূলীয় শহর দুয়ালাতে প্রায় ৬ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে এক বিশাল প্রার্থনা সভায় তিনি ভাষণ দেবেন। যুদ্ধের দামামা আর রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির মাঝে পোপের এই সফর এখন বিশ্ববাসীর কাছে এক বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
