দাবি পূরণ না হলে শস্যচুক্তি নবায়ন করবে না মস্কো: পুতিন

পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত মস্কো কৃষ্ণ সাগর শস্যচুক্তি নবায়ন করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।  

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেনীয় শস্য রপ্তানির বিষয়ে পুতিন তার এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাশিয়ার সোচি শহরে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ায় বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিচিত শস্য চুক্তিটিকে পুনরুজ্জীবিত করার আশায় এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। 

পুতিন জানান, পশ্চিমা দেশগুলো কৃষি রপ্তানির বিষয়ে মস্কোর দাবি পূরণ করার পরেই কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনীয় শস্য নিরাপদে পাঠানোর স্বাক্ষরিত চুক্তি নবায়ন করা হবে।

এদিকে এই বিষয়ে শিগগিরই একটি অগ্রগতি আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এরদোয়ান। তুরস্ক এবং জাতিসংঘ এই সমস্যা সমাধানের জন্য একটি নতুন প্যাকেজ প্রস্তাব নিয়ে একসাথে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এরদোয়ান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ত্রুটিগুলো সংশোধন করে শস্য রপ্তানির এই উদ্যোগটি অব্যাহত রাখা উচিত। 

২০২২ সালে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গম রপ্তানিকারক দেশ ইউক্রেনের শস্যগুদামগুলোতে আটকা পড়ে লাখ লাখ টন গম, ভুট্টা ও সূর্যমুখীর বীজ।

এতে ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারগুলোতে গম ও ভোজ্যতেলের সংকট শুরু হয়, ফলে বিশ্বজুড়ে হু হু করে বাড়তে থাকে খাদ্যশস্য আর ভোজ্যতেলের দাম। এই পরিস্থিতিতে ২০২২ সালের আগস্টে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 

গত বছর আগস্টে চুক্তি করার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে সেটির মেয়াদ। সর্বশেষ মেয়াদ বৃদ্ধির পর সময়সূচি অনুযায়ী ১৭ জুলাই ছিল এই চুক্তির শেষদিন।

চুক্তি নবায়নের আগে নিজেদের উৎপাদিত সার, শস্য ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছিল রাশিয়া। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ সেই শর্ত না মানায় মেয়াদের শেষদিন চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয় রাশিয়া।