ইসরাইলে এখনও লড়াই চলছে, তথ্য নিয়ে ধোঁয়াশা

ইসরাইলের সাথে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সংঘর্ষ গড়িয়েছে তৃতীয় দিনে। একদিকে গাজা ভূখণ্ডে চলছে ইসরাইলি বিমান হামলা এবং বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি। অন্যদিকে ইসরাইলের ভেতরে একাধিক অঞ্চলে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে হামাস যোদ্ধারা। তবে প্রকৃত তথ্য নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। 

ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বরাতে স্কাই নিউজ জানিয়েছে, রোববার দেশটির ভেতরে আটটি অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই চলছে। তবে এসব অঞ্চলে কতজন হতাহত হয়েছে তা জানা যায়নি। 

আইডিএফ মুখপাত্র রিয়ার. অ্যাড. ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, ইসরাইলি সেনারা এরইমধ্যে গাজা সীমান্তের সমস্ত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

ইসরাইলে এখনও লড়াই চলছে। ইমেজ- বিজনেস ইনসাইডার।

তিনি জানান, ইসরাইলের শার হানেগেভ আঞ্চলিক পরিষদে সেনাদের হাতে তিন হামাস যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এছাড়া বেইরিতে একজন, হোলিট ও সুফাতে পাঁচজন এবং আলুমিমে চারজন নিহত হয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ইসরাইলের সব অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 

দেশটির দক্ষিণের শহর সেডরোটে গেলো দুই দিনে বহু হামাস যোদ্ধা অনুপ্রবেশ করেছে জানিয়ে আইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, শহরের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ফিরে পেতে অভিযান চালাচ্ছে সামরিক বাহিনী।  

সোমবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, গাজার কাছাকাছি বেশ কিছু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে তারা। তবে এসব অঞ্চলে বন্দুকধারীরা এখনও সক্রিয় রয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। 

ইসরাইলে হামাসের হামালা। ইমেজ- বিবিসি।

এদিকে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা দাবি করেছেন, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা এখনও গাজা উপত্যকার বেশ কয়েকটি এলাকায় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ওফাকিম, সেডেরোট, ইয়াদ মোর্দেচাই, কেফার আজ্জা, বেইরি, ইয়াতিদ এবং কিসুফিম।

তবে এসব অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি ও হতাহতের কোনো তথ্য জানায়নি কর্তৃপক্ষ। 

সবশেষ হামাসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার পর গাজা উপত্যকার কাছে এক লাখ রিজার্ভ সেনা জড়ো করেছে ইসরাইল। 

সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক ভিডিওতে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জোনাথন কনরিকাস বলেছেন, আমরা প্রায় এক লাখ রিজার্ভ সেনা সংগ্রহ করেছি যারা বর্তমানে দক্ষিণ ইসরাইলে অবস্থান করছে। 

তিনি বলেন, আমাদের কাজ এটা নিশ্চিত করা যে, এই যুদ্ধ শেষে ইসরাইলের বেসামরিক নাগরিকদের হুমকি দেয়ার মতো সামরিক সক্ষমতা যাতে হামাসের আর না থাকে।

এর আগে শনিবার ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী দল হামাস হঠাৎ করেই ইসরাইলে এ বছরের সবচেয়ে বড় হামলা চালায়। হামাসের এ নজিরবিহীন হামলায় অন্তত ৭০০ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইলি বাহিনীর পাল্টা বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০০ ফিলিস্তিনি। এসব হামলায় এরইমধ্যে আহতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে।