অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন ক্লডিয়া গোল্ডিন

অর্থনীতিতে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ ক্লডিয়া গোল্ডিন। নারী শ্রম বাজারের প্রভাব নিয়ে মানুষের বোঝাপড়ার উন্নয়ন ঘটানোর স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেয়া হলো। অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়া দ্বিতীয় নারী তিনি।

রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, নারীদের শ্রম বাজার সম্পর্কে ধারণার উন্নতির জন্য ক্লডিয়া গোল্ডিনকে সম্মানজনক এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী শ্রমবাজারে নারীদের অবদান খুব একটা উপস্থাপিত হয় না। কাজের ক্ষেত্রেও তারা পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি পান।

অধ্যাপক গোল্ডিন এ বিষয়ে ২০০ বছরেরও বেশি সময়ের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে এবং কেন উপার্জন ও কর্মসংস্থানের হারে লিঙ্গ পার্থক্য পরিবর্তিত হয়েছে।

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারের মাধ্যমে চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর্ব শেষ হল। পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার পাবেন গোল্ডিন।

গত বছর অর্থনীতিতে ব্যাংকের ভূমিকা কতোটা, অর্থনৈতিক সঙ্কট এড়াতে ব্যাংকের সুরক্ষা কতোটা জরুরি, সেই আন্তঃসম্পর্কে আলো ফেলে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন অর্থনীতিবিদ বেন এস বেরনানকে, ডগলাস ডব্লিউ ডায়মন্ড এবং ফিলিপ এইচ ডিবভিগ।

নিউ ইয়র্কে ১৯৪৬ সালে জন্ম ক্লডিয়া গোল্ডিনের। ১৯৭২ সালে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বর্তমানে তিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপনায় যুক্ত।

২০০৯ অর্থনীতিতে প্রথম নারী হিসেবে নোবেল জিতেছিলেন এলিনর অসট্রম।

ডিনামাইট আবিষ্কারক সুইডেনের বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালে করে যাওয়া একটি উইল অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার প্রচলন করা হয়। প্রথম পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় ১৯০১ সালে।

সেসময় পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে সফল, অনন্যসাধারণ গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রমের জন্য পাঁচটি বিষয়ে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিষয়গুলো হলো পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাশাস্ত্র, সাহিত্য ও শান্তি।

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় ১৯৬৯ সাল থেকে।

এ বছর অর্থমূল্য বেড়েছে নোবেল পুরস্কারের। গতবারের চেয়ে এ বছরের বিজয়ীরা ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা বেশি পাবেন।

নোবেল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ২০২৩ সালে নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য বাড়িয়ে ১ কোটি ১০ লাখ ক্রোনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকা।