প্রশ্নের মুখে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

এক দশক ধরে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এবার তার পদত্যাগের দাবি উঠেছে। দুর্নীতি, সামাজিক বৈষম্য আর সেই সঙ্গে গাজায় গত এক মাস ধরে চলা অমানবিক সহিংসতা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে ফেলেছে প্রশ্নের মুখে।
 
ব্যাপক সামাজিক বৈষম্য, আবাসন সংকট, আর সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগে এক দশক ধরেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবি উঠছে। বারবারই নেতানিয়াহু বেঁচে গেছেন। 

৭ অক্টোবর ইসরাইলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকমী সংগঠন হামাস। সেই হামলা রুখতে ব্যর্থ হয় নেতানিয়াহু প্রশাসন। ফলে তার বিরুদ্ধে ইসরাইলে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। আর তার পরিপ্রেক্ষিতেই জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর বাসভবনের বাইরেও বিক্ষোভ করেছে ইসরায়েলিরা।

প্রশ্নের মুখে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের কারণে ইসরাইলে স্থানচ্যুত হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ইহুদি এবং হামাসের হাতে জিম্মি ২৪০ জনের ব্যাপারে উদাসীনতা এই ক্ষোভকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই বিক্ষোভগুলো এমন সময়ে হলো যখন এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, তিন চতুর্থাংশেরও বেশি ইসরাইলি নেতানিয়াহুর পদত্যাগ চান। জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন নেতানিয়াহুর এখনই পদত্যাগ করা উচিত। ৬৪ শতাংশ বলেছে, যুদ্ধ শেষ হবার পর দ্রুত ইসরাইলের নির্বাচন দেয়া উচিৎ।

এছাড়া হামাসের হামলার জন্য কে সবচেয়ে বেশি দায়ী- এমন এক প্রশ্নের উত্তরে ৪৪ শতাংশ ইসরাইলিই নেতানিয়াহুকে দায়ী করেছেন। সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থা নিরাপত্তা ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেও নেতানিয়াহু হামাসের আকস্মিক হামলার জন্য কোনও দোষ স্বীকার করেননি। 

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর দুটি উপায় আছে। প্রথমত, তাকে নিজে থেকে পদত্যাগ করতে হবে, দ্বিতীয়ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তাকে নির্বাচনে হারাতে হবে। 

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা বলছেন, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক দিন সম্ভবত ফুরিয়ে আসছে। বাইডেনের ইসরাইলের সফরে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে সেই কথার পুনরাবৃত্তি ছিল বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা । 

গত ২৭ বছরের মধ্যে ১৬ বছর দেশ শাসন করে আসছেন নেতানিয়াহু। এখনও আদালতে তার বিরুদ্ধে তিনটি দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন আছে।