দ্বিতীয় দফায় শীতে প্রবেশ করছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এ অবস্থায়, শীতের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ইউক্রেন সেনারা। কারণ যুদ্ধের প্রথম শীত তাদের জন্য ছিল ভীষণ কঠিন।
এরইমধ্যে, ক্যাম্পগুলোতে বিছানা, রান্নাঘর এবং ডিজেলচালিত গাড়ির হিটার বসানো হয়েছে। বিদ্যুতের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে গাড়ির ব্যাটারি। আহত সেনাদের প্রস্তুতি নিয়েছে সামরিক চিকিৎসকরাও।
ইউক্রেনের বাখমুত শহরের কাছাকাছি একটি স্থানে লড়াই করছে কিয়েভ সেনারা। রাশিয়ার ২২ মাসের আক্রমণে এই রণক্ষেত্রে কয়েকটি ভয়াবহ লড়াই হয়েছে।
পাতলা আবরণের আড়ালে থাকা এই আশ্রয়কেন্দ্রের আয়তন ২০ বর্গ মিটার। এতে বিছানা, রান্নাঘর এবং ডিজেলচালিত গাড়ির হিটার রয়েছে। বিদ্যুতের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে গাড়ির ব্যাটারি।
বাইরের তাপমাত্রা হিম শীতল হলেও, ভেতরে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েক দিনে বৃষ্টির কারণে আকাশ এখন ধূসর, আর বায়ু স্যাঁতস্যাতে।
গত সপ্তাহে বছরের প্রথম তুষারপাত হয়েছে। যা যুদ্ধরত সেনাদের জন্য দ্বিতীয় শীত হাজির হওয়ার ইঙ্গিত। যুদ্ধের প্রথম শীত ছিল ভীষণ কঠিন। তবে সেনারা বলছেন, তারা মানিয়ে নেয়া শিখে গেছেন।
জেনে গেছেন কীভাবে উষ্ণ থাকতে হয়। বাখমুতের কাছে আরও কয়েক দিন অবস্থান করবেন ইউক্রেন সেনারা। রাশিয়ার বিমান ও ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা পেতে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকেন তারা।
শীতে ঠান্ডা ও ইঁদুরের উপদ্রবের পাশাপাশি গাছের পাতাও ঝরে যায়। এর ফলে রুশ ড্রোনের ক্যামেরায় ইউক্রেনীয় সেনাদের অবস্থান ধরা পড়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
আর কাদার কারণে সড়কগুলো দিয়ে অস্ত্র ব্যবস্থা আনা-নেয়া করা কঠিন হয় ওঠে, আটকে যায় যানবাহন। এই পরিবেশে যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে পড়ে অনেক বেশি ভঙ্গুর, সুবিধা পাবে প্রতিপক্ষ।
স্বেচ্ছাসেবক এবং ব্রিগেডের সদস্যরা ড্রোনগুলি সরবরাহ করে। এগুলো দিয়ে শত্রুকে ধ্বংস করা হয়। তবে, দুর্ভাগ্যবশত, ইউক্রেনের সেনারা খুব বেশি অগ্রসর হতে পারেনি।
এদিকে, সামরিক চিকিৎসকরাও শীতের জন্য এবার তিনি ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। সেনাদের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে কর্মীরা দরজার ও জানালা লাগিয়েছেন কাঠ ও বোর্ড দিয়ে।
কিছু কক্ষে কাঠ পোড়ানোর চুলা এবং গাড়ির হিটার বসানো হয়েছে। চিকিৎসক বলছেন, গত শীতে কাজ করা অনেক কঠিন ছিল। তাদের কাছে সঠিকভাবে প্রস্তুতি নেয়ার মতো সময় ছিল না।
ফলে আহত সেনারা অনেক সময় খোলা জায়গায় শুয়ে থাকার পর রক্তক্ষরণ এবং হাইপোথার্মিয়ায় ভুগেছেন। চিকিৎসক আরও বলেছেন, তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যাওয়ায় তুষারপাত শিগগিরই হতে পারে।
তাই ইউক্রেন সেনারা এখন হাত উষ্ণ রাখতে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, শীতের মধ্যে যুদ্ধ করার কৌশল বহু বছর ধরে রপ্ত করা আছে রুশ সেনাদের।