ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় আহত হয়েছে অন্তত পাঁচজন, জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় ভোর রাতে কিয়েভের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র আক্রমণ শুরু করে রাশিয়া।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভালোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইরানের তৈরি ৭০টিরও বেশি কামিকাজে ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া এবং তাদের বেশিরভাগই আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে, স্থানীয় সূ্ত্রের খবর, এটি কিয়েভের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হামলা।
আর, কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামের একটি পোস্টে বলেছেন, এই হামলায় ১১ বছর একজন মেয়ে শিশুসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এছাড়াও পুরো শহর জুড়ে অসংখ্য ভবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ৭৭টি আবাসিক ভবনসহ প্রায় দুশ’টি ভবন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
কিয়েভ শহরের সামরিক প্রশাসনের মুখপাত্র মাইখাইলো শামানভ বিভিন্ন দিক থেকে রাজধানীর দিকে আসা ড্রোনের বেশ কয়েকটি তরঙ্গ বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, একাধিকবার ড্রোনের মাধ্যমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীজুড়ে সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিকদের এ সময় নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হয়।
বিবিসি জানাচ্ছে, কিয়েভের বিভিন্ন স্থানে ছয় ঘণ্টার অধিক সময় ধরে বোমা হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেন বিমান বাহিনী দাবি করেছে, সব ড্রোনগুলোই ইরানের শাহিদ কামিকাজের। অন্তত ৪০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে কিয়েভের বিভিন্ন অংশে ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। সূর্য ওঠার সাথে সাথে হামলার তীব্রতা আরও বাড়তে থাকে।
৫২ দিন বিরতির পর, গেলো ১৯ নভেম্বর কিয়েভে বিমান হামলা পুনরায় শুরু করে রাশিয়া। ওই হামলায় কিয়েভসহ বিভিন্ন স্থানে ইউক্রেনীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই ক্ষয়ক্ষতির এক সপ্তাহ না পেরোতেই আবারও ড্রোন হামলা চালালো রাশিয়া।
হামলা চালাতে ক্ষেপণাস্ত্রের সস্তা বিকল্প হিসেবে ইরানি ড্রোন ব্যবহার করছে রাশিয়া। এগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে ধীর গতির এবং একটি স্বতন্ত্র ডানা বিশিষ্ট। ড্রোনগুলো যদি আকাশে ধ্বংস করা হলেও, এর ধ্বংসাবশেষগুলো প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।