ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চারদিনের যুদ্ধবিরতির তৃতীয়দিনে মুক্তি পেয়েছে আরও ৩৯ ফিলিস্তিনি বন্দি। বিনিময়ে ১৩ ইসরাইলিসহ আরও ১৭ বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে গাজার হামাস সরকার।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের মুক্তি উপলক্ষ্যে রোববার রাতে অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় বিশাল সংখ্যক জনতা রাস্তায় নেমে আসে। এসময় অনেকের হাতে ফিলিস্তিনের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল হামাস ও ফাতাহের পতাকা ছিলো। স্বাধীন ফিলিস্তিনের স্লোগানও দেয় অনেকে।
রামাল্লার রাস্তায় পরিবারকে সাথে নিয়ে ছেলে ওমরের জন্য অপেক্ষা করছিলেন শাকির মাহাজনা। তিনি আল জাজিরাকে জানান, তার ছেলে ওমরের বয়স সম্প্রতি ১৮ বছর হয়েছে। ইসরাইলি সেনারা তার ছেলেকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তখন তার বয়স ছিলো মাত্র ১৬।
ছেলের মুক্তির বিষয়ে শাকির মাহাজনা বলেন, প্রথমে আমরা বিশ্বাস করিনি। শেষবার যখন আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম তখন সে হতাশ হয়ে পড়েছিল। সে আমাকে বলেছিল- ‘বাবা আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই’।
নুর আরার নামে এক নারী জানান, তার ১৭ বছর বয়সী ভাই জেইদকে গত জুলাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিল।
তিনি বলেন, অক্টোবরে যা ঘটেছে তার পরে আমি আরও ভয় পেয়ে যাই। যুদ্ধের কারণে সবকিছু স্থগিত করা হয়েছিল।
আমরা খুশি কিন্তু মিশ্র অনুভূতি অনুভব করছি জানিয়ে তিনি বলেন, গাজায় যা ঘটছে তাতে আমাদের আনন্দ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
এদিকে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) জানিয়েছে, এদিন রামাল্লা ও বেইতুনিয়ায় জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে অন্তত তিন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এছাড়াও টিয়ার গ্যাসের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছে আরও দুই শিশু।
এর আগে কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ও দ্বিতীয়দিনে বন্দি বিনিময় করেছে হামাস-ইসরাইল।
চারদিনের যুদ্ধবিরতিতে ইসরাইলের কারাগারে বছরের পর বছর ধরে বন্দি থাকা মোট ১৫০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে ইসরাইল। আর বিনিময়ে গাজায় আটক ৫০ ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দেবে হামাস।
এছাড়াও চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির চারদিনের প্রতিদিনই ওষুধ, খাবার, পানি ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী নিয়ে মিশরের রাফা ক্রসিং দিয়ে গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করবে ২০০ ট্রাক।
গেলো ৭ অক্টোবর ইসরাইলে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে পুরো বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেয় হামাস। এসময় ইসরাইলি সেনাসহ ২০০ বা তারও বেশি লোককে বন্দি করে গাজায় নিয়ে যান হামাসের যোদ্ধারা।
হামাস জানায়, ইসরাইলের কারাগারে জিম্মি থাকা কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে মুক্তি না দিলে, আটক ইসরাইলিদের মুক্তি দেবে না সংগঠনটি।