দাউদ ইব্রাহিম। ভারতের কাছে সবচেয়ে শীর্ষ ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’। গোটা বিশ্বের কাছে দাউদ ইব্রাহিমের রয়েছে নজিরবিহীন কুখ্যাতি। ভারতে জন্ম নেয়া অপরাধ জগতের এই সম্রাট এখন পালিয়ে আছেন বিদেশে। তাও আবার ভারতের চিরশক্র পাকিস্তানেই আছেন তিনি, এর আগে তার ডেরা ছিলো আরব আমিরাতে।
অনেক দিন ধরেই শিরোনামে নেই অন্ধকার জগতের এই সম্রাট। হঠাৎ করেই ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো জানালো, দাউদ ইব্রাহিম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তাও, আবার খাদ্য বিষক্রিয়ারয় অসুস্থ হয়ে দাউদ ইব্রাহিম নাকি এখন করাচির একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
অসমর্থিত সূতের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, করাচির যে হাসপাতালে দাউদকে রাখা হয়েছে, সেখানে একেবারে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে শুধুমাত্র চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদের যাওয়ার অনুমতি আছে। যদিও এনিয়ে পাকিস্তান সরকার কোন মন্তব্য করেনি।
জানা গেছে, কোন এক অজ্ঞাত পরিচিত ব্যক্তি দাউদ ইব্রাহিমের খাদ্যে বিষ মিশিয়েছেন। যে কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে করাচির হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছেন। এই ঘটনার পর কোন অজ্ঞাত কারণে পাকিস্তানে বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। পুরো দেশে যেন এক আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতের ‘আজ তক’ টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাউদ গ্যাংয়ের এক প্রাক্তন সদস্য নিশ্চিত করেছেন যে, দাউদ গুরুতর অসুস্থতার কারণে করাচির একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তাকে দু'দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোন নিশ্চিত তত্য পাওয়া যাচ্ছে না।
হাসপাতালে দাউদ ইব্রাহিমকে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। তাকে যে ফ্লোরে ভর্তি করা হয়েছে সেখানে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র করাচি প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও পরিবারের ঘনিষ্ঠরাই সেখানে যাওয়ার অনুমতি পাচ্ছেন। হাসপাতালের চারপাশেও কড়া পাহারা বসানো হয়েছে।
বিষ খাওয়ার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বলা হচ্ছে, মুম্বাইয়ের পুলিশ কর্মকর্তারাও দাউদের নিকটাত্মীয়দের (ভাইপো আলিশা পারকার এবং সাজিদ ওয়াগলে) থেকে এ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এই বিষয়ে দিল্লির তরফে এখনো কোন বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া দেয়া হয়নি।
৬৫ বছরের দাউদ বেশ কয়েক বছর ধরে করাচিতে বসবাস করছেন। পাকিস্তানি মিডিয়ার মতে, হাসপাতালে ভর্তির কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। দাউদের আকস্মিক অসুস্থতার পেছনে বিষ হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। এর আগেও দাউদ অনেক কঠিন রোগে ভুগছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল।
১৯৯৩ সালে মুম্বাইয়ে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে দাউদ ইব্রাহিমকে চিহ্নিত করে আসছে দিল্লি। সেই ভয়াবহ হামলার পর তিন ভারত ছেড়ে দুবাই পালিয়ে যান। এরপর পাকিস্তানে ঘাঁটি তৈরি করেন। এখন পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকেন। তার বিরুদ্ধে ভারতে জঙ্গি হামলা, খুন, অপহরণ, সুপারি হত্যা, সংগঠিত অপরাধ, মাদক, অস্ত্র চোরাচালানের মতো অনেক মামলা রয়েছে।
দাউদ ইব্রাহিম কাস্করের জন্ম ১৯৫৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মহারাষ্ট্রের রত্নাগিরি জেলায়। তার বাবা ইব্রাহিম কাস্কর ছিলেন একজন পুলিশ কনস্টেবল। ইব্রাহিম আর আমিনা কাস্করের ১২ সন্তানের অন্যতম দাউদ। পরে দাউদ ইব্রাহিমের পরিবার মুম্বাইয়ের ডোংরি এলাকায় চলে আসে।
সত্তর দশকে মুম্বাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডে দাউদের নাম দ্রুত উঠতে শুরু করে। আগে হাজী মাস্তান গ্যাংয়ে কাজ করতেন। সেখানে থাকতেই তার প্রভাব বাড়তে থাকে। লোকেরা তার গ্যাংকে ‘ডি-কোম্পানি’ বলে ডাকতে শুরু করে। পর্যায়ক্রমে গ্যাংটির নেতা হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠেন দাউদ ইব্রাহিম।