লোহিত সাগরে ইসরাইলি মালিকানাধীন জাহাজগুলোতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় ইরান ‘জড়িত’ বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান।
শনিবার বার্তা সংস্থা মেহর নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী বাকেরি। খবর পার্সটুডের।
বাকেরি বলেন, হুতিরা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ৭ অক্টোবরের পর থেকে লোহিত সাগরে এ পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ১০টি বাণিজ্যিক জাহাজে ১০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের সেনাবাহিনীও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।
মার্কিন সরকার ও ইসরাইলের অভিযোগ, এসব হামলা চালাতে হুতিদের সাহায্য করছে তেহরান। কোন কোন জাহাজে হামলা চালাতে হবে তার গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করার পাশাপাশি হুতিদের অস্ত্রও দিয়েছে ইরান।
হোয়াইট হাউজের এ দাবি নাকচ করে দিয়ে ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হুতিরা নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও সামর্থ্য দিয়ে হামলা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর হাতে মার খাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ফাখরি জানিয়েছিলেন, লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরের পাশাপাশি মহাসাগরগুলোতে যুদ্ধজাহাজসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের নৌযানের চলাচল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করছে ইরান।
এর আগে অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ২০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রতিবাদে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা ও সামরিক বাহিনী লোহিত সাগরে ইসরাইলি জাহাজে হামলা শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা ইসরাইল অভিমুখী যেকোনো দেশের জাহাজকেও টার্গেট করার ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে ইসরাইলের এইলাত বন্দর লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার ফলে বন্দরটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।