ইউক্রেনে অন্যরকম লড়াইয়ে যুদ্ধাহত সেনারা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেনাসহ ইউক্রেনের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে হতাহত হয়েছেন প্রায় চার লাখ মানুষ। এদের বেশিরভাগই সেনা সদস্য।

চিকিৎসা শেষে অনেকে সামরিক ব্যারাকে ফিরলেও যুদ্ধে যোগ দিতে পারেনি। কারও কারও আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে আহত সেনা মেরিন অ্যান্ড্রির স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রানন্তর চেষ্টা চলছে। যুদ্ধে দুটি পা-ই হারিয়েছে তিনি। এখন কিয়েভের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একটি স্থানীয় হাসপাতালে চলছে চিকিৎসা।

পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠতে অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন অ্যান্ড্রু। তিনি বলেন, ডাক্তাররা আমাদেরকে বিভিন্ন ম্যাসাজ দেয় ব্যথা কমানোর জন্য। আমি এখন আগের থেকে অনেকটাই ভালো অনুভব করছি।

হাসপাতালটির প্রধান সার্জন ডক্টর ইউরি বেজেসমারতিনি বলেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ১২শ’ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। যারা যুদ্ধে শরীরের তিন অঙ্গই হারিয়েছে।

হাসপাতালটিতে সেবা নিতে আসা বেশিরভাগই সেনা সদস্য। এদের অনেকে অঙ্গচ্ছেদ করা হয়েছে। এর জন্য তাদের ভয়াবহ অস্ত্রোপচারের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীদের বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম হাত-পা এর ব্যবহারও শেখানো হচ্ছে তাদের।

চিকিৎসক ডক্টর ইউরি বলেন, আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় হল যুদ্ধে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারিয়ে ফেলা এসব সেনাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এমন রোগীদের সংখ্যা মোট ৪৬ শতাংশ। মানসিকভাবে তারা অনেকটাই বিপর্যস্ত । তাই তাদের এখন সর্বক্ষণই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধায়নে রাখা প্রয়োজন।

এমনই ইউক্রেনের আরকে আহত সেনা ২৪ বছর বয়সী ভলোদিমার। তিনিও বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। স্বাভাবিক জীবনে ফেরা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে তার।

ভলোদিমার বলেন, আমি তিন বছর ধরে সেনাবাহিনীতে ছিলাম। যেখানে আমি নাগরিক জীবন থেকে অনেকটাই দূরে ছিলাম। এখন আমাকে সবকিছু আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।

আহত সেনাদের চিকিৎসা নেয়ার এমন চিত্র এখন ইউক্রেনের বেশিরভাগ হাসপাতালে। চিকিৎসা শেষে তারা সামরিক বাহিনীতে ফিরতে পারবে কি না তা নিয়েও দেখা দিয়েছে বড় প্রশ্ন। তবে, কেউ কেউ ব্যারাকে ফিরলেও তাদের সামর্থ্য বা কর্মক্ষমতাও ভাবিয়ে তুলেছে কর্তৃপক্ষকে।

কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের ৩ লাখ ৮৩ হাজার সেনাসদস্য হতাহত হয়েছেন। এরপরও হাল ছাড়েনি তারা। যে কোনো মুহূর্তে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতিও চলছে।