গাজায় নিহতের সংখ্যা ২৩ হাজার ছাড়ালো

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডে নিহতদের সংখ্যা ২৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই নিহত হয়েছেন প্রায় আড়াইশ’ ফিলিস্তিনি। এছাড়া গত অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৫৯ হাজার ফিলিস্তিনি।

গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় আরও ২৪৯ জন নিহত এবং ৫১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া, সোমবার ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারসহ দুই জন। এদিকে গাজার মধ্যাঞ্চলে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে ইসরাইল। 

আল-আকসা হাসপাতালসহ দক্ষিণ ও মধ্য গাজায় বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল । ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় প্রায় আড়াইশ' ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আল-আকসা হাসপাতালের ৬০০ রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথায় আছে তা কেউ জানে না। 

এর পাশাপাশি জাবালিয়া এবং দেইর আল জৌর শরণার্থী শিবিরে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, হতাহতদের বেশিরভাগই শিশু। হামলার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে ওষুধ ও খাবারের তীব্র সংকট। চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে হাসপাতালেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, ইসরাইলি আক্রমণে গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত। অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটির ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অব্যাহত অবরোধের কারণে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনি মিডিয়া অফিস বলছে, ইসরাইলি হামলার ফলে গাজায় ৫৫টি মসজিদ, তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়, তিন গির্জা এবং পাঁচটি ভবন ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া, এক হাজার ৮০০ শিশুসহ প্রায় ছয় হাজার জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে। ইসরাইলি দখলদারিত্বের জেরে এক হাজার ২৭০টি গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে।

ইসরাইলি আগ্রাসন থেকে রেহাই পায়নি চিকিৎসকরাও। মোট ২০০ চিকিৎসক, ২২ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী এবং ৫১ জন সাংবাদিকও হামলায় নিহত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে ২৫টি হাসপাতাল, ৫২টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ৫৫টি অ্যাম্বুলেন্সকে ইসরায়েলি বাহিনী লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার রাফাহ শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় দুইজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার হামজা ওয়ায়েল দাহদোহ ও অন্যজন বার্তা সংস্থা এএফপির মুস্তফা থুরায়া। এই নিয়ে গত তিন মাসের ইসরাইলি অভিযানে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহত সাংবাদিকদের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ১০৯ জনে। 

সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা বন্ধে সাংবাদিকদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন ও আইনি প্রতিষ্ঠানকে সজাগ হওয়ার আহবানও জানিয়েছে গাজার মিডিয়া দপ্তর।

গাজার অধিবাসীদের নিজগৃহে ফিরে যাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তনি ব্লিঙ্কেন। চতুর্থবারের মতো মধ্যপ্রাচ্য সফর করছেন ব্লিঙ্কেন। দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়াতে তিনি কাজ করবেন। 

তিনি বলেন, এই অঞ্চলটি এখন গভীর চিন্তার একটি বিষয়। এটি এমন একটি সংঘাত যা সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে বিষয়টি আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতা এবং আরও বেশি দুর্ভোগের কারণ হতে পারে।

এদিকে আবারও লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। দক্ষিণ লেবাননের এক গ্রাম লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর এক কমান্ডারসহ দু’জন নিহত হয়েছে। নিহত ওই কমান্ডারের নাম ইসাম আল তাবিল। তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীটির অভিজাত রাদওয়ান ফোর্সের উপপ্রধান।