ইকুয়েডরে দেশজুড়ে ৬০ দিনের জরুরি অবস্থা জারির মধ্যেই সরাসরি সম্প্রচার চলার সময় এক টেলিভিশনে স্টুডিওতে ঢুকে পড়েন কয়েকজন বন্দুকধারী। এ সময় ওই অনুষ্ঠানের কর্মীদের মেঝেতে শুয়ে ও বসে পড়তে বাধ্য করেন তারা। এক পর্যায়ে সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়।
গুয়ায়াকিল শহরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল টিসির একটি লাইভ প্রোগ্রাম প্রচারের সময় এই ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে ওই অস্ত্রধারীদের স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে তারা ওই টিভি চ্যানেলের বেশ কয়েকজনকে জিম্মি হিসেবে অপহরণ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার এই ঘটনার কথা জানায় দেশটির পুলিশ। তারা জানিয়েছে, ওই টেলিভিশন স্টেশন থেকে কর্মীদের সরিয়ে আনা হয়েছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কী কারণে টেলিভিশনের ওই লাইভ প্রোগ্রামে বন্দুকধারীরা হামলা চালালো তা এখনও পরিষ্কার নয়।
দেশটির বন্দরনগরী গুয়াইকিল শহরে টিসি নামের ওই টেলিভিশন স্টেশনে সোমবার এ ঘটনা ঘটে। টিসির লাইভ অনুষ্ঠান চলাকালীন বন্দুকধারীরা সেখানে প্রবেশ করে এবং কর্মীদের মেঝেতে শুয়ে পড়তে বাধ্য করে। একপর্যায়ে সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। এর আধা ঘণ্টা পর পুলিশ সেখানে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, টেলিভিশন স্টেশনটি থেকে কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে কেউ নিহত বা আহত হয়নি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনজন বন্দুক নিয়ে মাটিতে বসে আছেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্য একজনকে জোর করে প্রেসিডেন্ট নোবোয়াকে সম্বোধন করে একটি বিবৃতি পড়ানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আপনি যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, আপনি সেই যুদ্ধ দেখবেন। আপনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। আমরা পুলিশ, বেসামরিক এবং সৈন্যদের লুট করব।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একজন বন্দুকধারী টেলিভিশনের এক কর্মীর মাথায় বন্দুক ধরে হুমকি দিচ্ছে। এএফপি নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন নারী উপস্থাপককে অনুরোধ করতে শোনা যায়, ‘গুলি কোরো না, দয়া করে গুলি কোরো না’।
শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গুয়াকিলের টিভি স্টেশনে হামলার পর থেকে শহর বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। শহরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কর্মস্থল থেকে মানুষ আগে আগে ঘরে ফিরে যাচ্ছে। চারদিকে যানজট বেঁধে গেছে, যা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে। শিশুদেরকে বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না।
গত সোমবার এক কুখ্যাত গ্যাংস্টার কারাগার থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ইকুয়েডরে ৬০ দিনের জরুরি অবস্থা চলছে। গত রোববার ইকুয়েডরের লস ক্রোনেরস নামের একটি অপরাধী চক্রের নেতা এডলফো মাসিয়াস একই শহরের কারাগার থেকে পালিয়ে যান। তিনি ৩৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইকুয়েডরের কারাগারগুলোতে বন্দিদের মধ্যে সহিংসতা বেড়ে গেছে। এরা মূলত বিভিন্ন গ্যাংয়ের সদস্য। ফলে প্রায়ই বন্দিদের মধ্যে হত্যার ঘটনা ঘটে। কারাগারে মারাত্মক দাঙ্গা ও সহিংসতার পেছনে ‘চোনেরোস’ নামে একটি শক্তিশালী গ্যাং কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কলম্বিয়া ও পেরুর মাদক পাচারকারীদের সংঘাতের মাঝেই চিড়ে-চ্যাপ্টা হচ্ছে শান্ত ইকুয়েডর। ড্রাগ কার্টেল নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার গ্যাংস্টারদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। ইকুয়েডরের কুখ্যাত গ্যাংস্টার জেল থেকে পালানোর পরই সংঘর্ষ আরও বেড়েছে।
মঙ্গলবার টেলিভিশন চ্যানেলে হামলার পরই প্রেসিডেন্ট নোবোয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানান, এই সব দুষ্কৃতীদের নির্মূল করার জন্য সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।