যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে হিলটন হোটেলে হোয়াইট হাউসে কাজ করা সাংবাদিকদের সংগঠন- হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন' ডিনারে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টের ওপর হামলার ঘটনা আমেরিকার রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ও ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতার আবহে এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা চ্যুতি মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সময় শনিবার রাতের এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ এবং অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা।
অথচ এত কঠোর প্রহরার মধ্যেও ৩১ বছর বয়সী কোল টমাস অ্যালেন শটগান, হ্যান্ডগান এবং একাধিক ছুরি নিয়ে হোটেলের বলরুমের ঠিক এক তলা ওপরে পৌঁছে যেতে সক্ষম হন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে বিবিসি’র উত্তর আমেরিকা সংবাদদাতা গ্যারি ও'ডোনোহিউ জানান, হোটেলের বাইরে নিরাপত্তা খুব একটা জোরদার ছিল না। এমনকি হোটেলের প্রবেশপথে কেবল টিকিট দেখেই অতিথিদের ভেতরে যেতে দেওয়া হচ্ছিল।
জানা গেছে, হামলাকারী কোল অ্যালেন ওই হোটেলেরই একজন নিবন্ধিত অতিথি ছিলেন। ফলে হোটেলের সাধারণ কার্যক্রম চালু থাকায় তিনি সহজেই ভেতরে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অ্যালেন একটি সিক্রেট সার্ভিস চেকপয়েন্ট অতিক্রম করার চেষ্টা করেন এবং একজন এজেন্টকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। তবে বলরুমের ভেতর প্রবেশের আগেই তাকে জাপ্টে ধরে গ্রেপ্তার করা হয়।

বলরুমের ভেতর যখন বসন্তকালীন সালাদ পরিবেশন করা হচ্ছিল, তখনই গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা দ্রুত ট্রাম্প ও ভ্যান্সকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। অন্যদিকে, সাংবাদিকদের সাথে ডাইনিং হলে বসা অন্যান্য মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের দেহরক্ষীরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখান।
মার্কো রুবিও এবং স্কট বেসেন্টের মতো কর্তাব্যক্তিদের তাদের দেহরক্ষীরা ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেন এবং মানবঢাল তৈরি করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

হামলার পর হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প সিক্রেট সার্ভিসের সাহসিকতার প্রশংসা করলেও হিলটন হোটেলের নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এটি বিশেষ নিরাপদ কোনো ভবন নয়। উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালেও এই একই হোটেলের বাইরে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। ট্রাম্প বর্তমানে নির্মাণাধীন হোয়াইট হাউস বলরুমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, সেটি ড্রোন ও বুলেটপ্রুফ সুবিধাসম্পন্ন হবে।

আমেরিকায় রাজনৈতিক সহিংসতার গ্রাফ দিন দিন ঊর্ধ্বমুখী। ২০২২ সালে ন্যান্সি পেলোসির স্বামীর ওপর হামলা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের ওপর প্রাণঘাতী হামলা- সবই এক অস্থির সময়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, হামলাকারী বলরুমের ভেতর ঢুকতে না পারাটাই প্রমাণ করে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর ছিল।
তবে এই ঘটনা নিশ্চিতভাবেই ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের জনসমক্ষে উপস্থিতির ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
