এডেন উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি ট্যাঙ্কার জাহাজ লক্ষ্য করে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইল যে আগ্রাসন ও গণহত্যা চালাচ্ছে, তাতে অকুণ্ঠ সমর্থন দিচ্ছে ওয়াশিংটন। এর প্রতিবাদেই এ হামলা চালায় হুতিরা।
ইরানভিত্তিক প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ট্যাঙ্কারটি লক্ষ্য করে দু’টি জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
হামলার কথা স্বীকার করে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, এ হামলায় জাহাজের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা কেউ হতাহত হয়নি।
তবে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এডেন উপসাগরে অবস্থান করার সময় ‘কেম রেঞ্জার’ নামে ওই জাহাজে নৌ-ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি মার্কিন জাহাজে আঘাত হেনেছে।
দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে লোহিত সাগর ও আশপাশের এলাকায় চলা ইসরাইল ও মার্কিন মালিকানাধীন জাহাজে হামলা চালাচ্ছে হুরিরা। এসব হামলায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। লোহিত সাগর দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্যের গতি ধীর হয়ে গেছে।
এর আগে গেলো অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ২৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রতিবাদে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সামরিক বাহিনী লোহিত সাগরে ইসরাইলি জাহাজে হামলা শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা ইসরাইল অভিমুখী যেকোনো দেশের জাহাজকে টার্গেট করার ঘোষণা দেয়। এর পরপরই ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে হুতিদের লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
সবশেষ চলতি সপ্তাহে হুতি বিদ্রোহীদের ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।