এক মাস যুদ্ধবিরতির পথে এগোচ্ছে হামাস-ইসরাইল

গাজা উপত্যকায় এক মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পথে অনেকটা অগ্রসর হয়েছে ইসরাইলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা এবং গাজার হামাস সরকার। তবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিয়ে উভয়পক্ষের মতপার্থক্য এখনও দূর হয়নি। এদিকে গাজায় গেলো ২৪ ঘণ্টায় দখলদার বাহিনীর হামলায় অন্তত ১৯৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

বুধবার তিনটি সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরাইল ও হামাস যুদ্ধের শুরু থেকে মধ্যস্থতার ভূমিকায় রয়েছে কাতার, যুক্তরাষ্ট্র এবং মিশর। 

এই তিন দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামাসের হাতে থাকা ১৩০ জনেরও বেশি বন্দি ও ইসরাইলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি, গাজায় সহিংসতা বন্ধ করা এবং উপত্যকায় ত্রাণের সরবরাহ আরও বাড়াতে ইসরাইল-হামাস উভয় পক্ষই এক মাসের যুদ্ধবিরতিতে যেতে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে। 

তবে হামাস শুরু থেকেই তাদের এক দফা দাবিতে অটল রয়েছে। ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধ করে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বন্দিদের মুক্তির বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি।

গত ২৫ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত এক মানবিক বিরতির সাত দিনে মোট ১০৮ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। বাকি ১৩২ জন এখনও তাদের হাতে আটক রয়েছে।

এদিকে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে সোমবার সর্বোচ্চ সংখ্যক সেনার মৃত্যু দেখেছে ইসরাইল। 

আইডিএফ জানায়, সোমবার দক্ষিণ গাজায় অভিযানের সময় দু'টি ভবনে বিস্ফোরণ ও একটি ট্যাংকে রকেট চালিত গ্রেনেড হামলায় ২১ ইসরাইল সেনা নিহত হয়।

গাজা যুদ্ধের তিন মাসে প্রায় এক হাজারের বেশি ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়াও ধ্বংস হয়েছে হাজারের বেশি সামরিক যান। এতে অনেকটাই চাপে পড়েছে ইসরাইল।  

এর আগে গেলো অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ২৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। 

ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত শান্তি আলোচনার কোনো অর্থ হয় না বলেও মনে করে হামাস।