জাপানে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের ৫০ বছর পর আসামি ধরা

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাপানের রাজধানী টোকিওতে বেশ কিছু জাপানিজ কোম্পানিতে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ইস্ট এশিয়া অ্যান্টি-জাপান আর্মড ফ্রন্ট (ইএএজেএফ)। এরই মধ্যে সংগঠনটি বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছে। তবে আলোচনায় এসেছেন ৫০ বছর পর ধরা পড়া পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ানটেড’ তালিকায় থাকা সাতোশি কিরিশিমা নামে এক ব্যক্তিকে নিয়ে। আলোচনায় আরও আছেন সংগঠনটির দুই সদস্য, যারা ঢাকায় জাপানি বিমান হাইজ্যাক করেছিলেন।

বিবিসি জানিয়েছে, বর্তমানে ৭০ বছর বয়সী সাতোশি নিজেকে ওই সিরিজ হামলাকারী বলে দাবি করেছেন। প্রায় পাঁচ দশক ধরে মোস্ট ওয়ান্টেড সাতোশি টার্মিনাল ক্যান্সারে আক্রান্ত। টোকিওর কাছে একটি হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তিনি এ দাবি করেন। তবে ডিএনএ টেস্টের ফল হাতে না আসায় পুলিশ এখন তাকে হেফাজতে নেয়নি।

টোকিওর দক্ষিণে কানাগাওয়ার কামাকুরা শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় তিনি প্রথমে একটি ভিন্ন নাম ব্যবহার করেছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার হাসপাতালের কর্মকর্তাদের কাছে নিজের নাম সাতোশি কিরিশিমা বলে জানান।

এতো দিন পরে কেন নিজের আসল পরিচয়, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আসল নাম’ তার শেষ মুহূর্তে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। কারণ তার বেঁচে থাকার জন্য মাত্র কয়েক মাস বাকি আছে।

কে এই সাতোশি কিরিশিমা?

সাতোশি কিরিশিমা ইস্ট এশিয়া অ্যান্টি-জাপান আর্মড ফ্রন্টের (ইএএজেএফ) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাদের কু-কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 

ইএএজেএফ একটি উগ্র বামপন্থি সংগঠন, যা জাপানি রাষ্ট্র, কর্পোরেশন এবং জাপানি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবের মতাদর্শকে সমর্থন করেছিল। 

তারা ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে জাপানের রাজধানীতে বেশ কিছু জাপানিজ কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। 

এর মধ্যে রয়েছে- ১৯৭৪ সালের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজর সদর দপ্তরে বোমা হামলা। যেখানে আট জন নিহত এবং ৩৮০ জন আহত হয়েছিল।

জাপানের ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির (এনপিএ) মতে, ১৯৭৫ সালের ১৮ এপ্রিল টোকিওর গিঞ্জা জেলার একটি বিশেষ বোমা হামলায় কিরিশিমা বোমা স্থাপন ও বিস্ফোরণে অভিযুক্ত। সেই বোমা হামলায় একটি ভবনের কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। 

এনপিএ’র ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, কিরিশিমা ধারাবাহিক বোমা হামলার জন্য তাকে মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি হিসাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দলটির অন্তত আরও দুই সন্দেহভাজন জাপান থেকে পালিয়ে গেছে। 

এদিকে জাপানের সংবাদমাধ্যম আশাহি সিম্বুন জানায়, ইএএজেএফ টোকিওতে অন্তত ১২টি বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইতিমধ্যে ওই চক্রের ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আয়াকো ডাইডোজি (৭৫) এবং নোরিও সাসকিকে (৭৫) জাপানি রেড আর্মির একটি চুক্তির অংশ হিসাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তারা ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের ঢাকায় জাপান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান হাইজ্যাক করেছিলেন। তারা দুই জনও আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকায়।