মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ 'হরমুজ প্রণালী' রক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। অন্যদিকে, এই একই ইস্যুতে জাপান বেশ সতর্ক ও রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। শনিবার ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলো যৌথভাবে এই সংকীর্ণ জলপথে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করবে, যাতে জ্বালানি পরিবহন নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন থাকে।

সিউলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ট্রাম্পের এই মন্তব্য এবং সামাজিক মাধ্যমে দেয়া বার্তার দিকে কড়া নজর রাখছে। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, আমরা ওয়াশিংটনের সাথে ঘনিষ্ঠ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করব।
তিনি আরও যোগ করেন, জ্বালানি পরিবহনের রুটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিউল সব ধরনের ব্যবস্থা ও সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
দক্ষিণ কোরিয়া কিছুটা ইতিবাচক হলেও জাপান এই মুহূর্তে এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপে জড়ানোর বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক। জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতি নির্ধারক প্রধান তাকাউকি কোবায়াশি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য যে ধরনের পরিস্থিতি বা শর্ত প্রয়োজন, তা বর্তমানে অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ, বিষয়টি সহজে ঘটছে না।
জাপানি সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোবায়াশি বলেন, আইনগতভাবে জাপান এ ধরনের পদক্ষেপের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করে দিচ্ছে না। তবে, বর্তমান চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে আমাদের অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। টোকিও মনে করছে, সরাসরি এই সংঘাতে জড়ানো তাদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি আশা প্রকাশ করেছেন, চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো হরমুজ প্রণালীতে তাদের নিজস্ব জাহাজ পাঠাবে। ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর তেহরান এই জলপথটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এই আহ্বানের লক্ষ্য হলো একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
হরমুজ প্রণালী রক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া আমেরিকার সাথে সক্রিয় হওয়ার পথে থাকলেও জাপান এই মুহূর্তে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ। এই ভিন্নমুখী অবস্থান নির্দেশ করছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ শুধু আরব বিশ্ব নয়, বরং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর কূটনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তাকেও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে।
তথ্যসূত্র; মিডল ইস্ট আই
পরিস্থিতি আরও জটিল না করতে ফ্রান্সকে ইরানের হুঁশিয়ারি