গাজার ক্ষুধার্ত মায়েদের বুকে দুধ নেই, শিশুরা অনাহারে

অমানবিক দৃশ্যপট! গাজার ক্ষুধার্ত মায়েদের বুকে দুধ নেই। অনাহারে রয়েছে শিশুরা। সেখানকার ২৩ লাখ বাসিন্দার সবাই ক্ষুধার্ত। গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলের অবিরাম বোমা হামলার মধ্যে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে তারা। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার অনেক এলাকা এরই মধ্যে দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়েছে।

ইসরাইলের কড়া অবরোধ ও নির্বিচার হামলার মুখে থাকা ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজার অপুষ্টিতে ভোগা সব মায়েরা যে শিশুদের জন্ম দিচ্ছেন তারা অসুস্থ হয়েই জন্মাচ্ছে, ক্ষুধার্ত মায়েদের বুকে দুধ তৈরি হচ্ছে না আর তাতে ওজন হারাচ্ছে নবজাতকরা।

gaza-mother1

রাফা হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে শিশুরোগের চিকিৎসক জাবর আল-শায়ের একটি নবজাতককে দেখান, জন্মের পর যারা ওজন ছিল সাড়ে সাত কেজি, মাত্র দেড় মাসের মধ্যে শিশুটি ২ কেজি ওজন হারিয়ে এখন সাড়ে পাঁচ কেজি হয়েছে।

শিশুটির মা শরুক শাবান তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান কিন্তু তিনি নিজেই খেতে পান না। দক্ষিণ গাজার অধিকাংশ মানুষের মতো তিনিও অল্প একটু রুটি ও টিনজাত খাবারের ওপর বেঁচে আছেন।

gaza-mother2

 

ইসরাইলের হামলায় গাজার উত্তরাঞ্চল প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। কারও পক্ষে সেখানে যাওয়াও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ত্রাণ সহায়তাও পৌঁছাতে পারছে না সেখানে। যদি কখনও বা সেখানে ত্রাণ পৌঁছায়, ক্ষুধার্ত ও বেপরোয়া ফিলিস্তিনিরা তা ঘিরে ধরছে এবং কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছে, এতোটাই কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সেখানে।

gaza-mother3

ত্রাণকর্মীরা জানিয়েছেন, সেখানকার মানুষগুলো না খেয়ে রুগ্ন হয়ে যাচ্ছে। চোখমুখ শুকিয়ে যাওয়া মানুষজনকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে তারা কতোটা ক্ষুধার্ত। উত্তরাঞ্চলের খাদ্য পরিস্থিতি ভয়ংকর। সেখানে প্রায় কোনো খাবার নেই আর যাদের সঙ্গেই কথা বলি সবাই খাবার ভিক্ষা চায়।

গাজার মিশরীয় সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকাগুলো আমদানি করা খাবারের সীমিত সরবরাহ পেলেও ভূখণ্ডটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চল দুর্ভিক্ষের মুখে আছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক ত্রাণ কর্মীরা।