গেলো শুক্রবার রাতে এডেন উপসাগরে একটি ব্রিটিশ তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। কিছু সূত্র দাবি করেছিল যে, তেল ট্যাংকারটি গ্রিসে যাচ্ছিল। তবে সে দাবি নাকচ করে দিয়েছে লেবাননের গণমাধ্যমগুলো।
একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বৈরুত ভিত্তিক আল-মায়াদিন নিউজ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ইয়েমেনের নৌবাহিনী যে ব্রিটিশ জাহাজে হামলা চালিয়েছে সেটি গ্রিসে নয় বরং ইসরাইলে যাচ্ছিল।
সূত্রগুলো বলেছে, দুটি মার্কিন ও ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ ওই তেল ট্যাংকারটিকে নিরাপত্তা দিচ্ছিল। কিন্তু ইয়েমেনের সেনাবাহিনী ট্যাংকারটি কাছে এসে হামলা শুরু করলে মার্কিন ও ব্রিটিশ জাহাজগুলো ট্যাংকারটিকে ফেলে পালিয়ে যায়।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিদ সারি শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে জানান, তারা এডেন উপসাগরে উপযুক্ত নৌ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ব্রিটিশ তেল ট্যাংকার মার্টিন লুয়ান্ডায় হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ট্যাংকারটিতে আঘাত হানে এবং এটিতে আগুন ধরে যায়।
সারি সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেন, গাজায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের গণহত্যা অভিযান বন্ধ এবং ওই উপত্যকায় মানবিক ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ অবারিত না করা পর্যন্ত তাদের এ হামলা চলতে থাকবে।
এদিকে ভারতীয় নৌবাহিনীর বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, হুতিদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটিতে ২২ জন ভারতীয় এবং একজন বাংলাদেশি ক্রু রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে গেলো অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ২৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রতিবাদে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সামরিক বাহিনী লোহিত সাগরে ইসরাইলি জাহাজে হামলা শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা ইসরাইল অভিমুখী যেকোনো দেশের জাহাজকে টার্গেট করার ঘোষণা দেয়। এর পরপরই ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে হুতিদের লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য।
সবশেষ চলতি সপ্তাহে হুতি বিদ্রোহীদের ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আমেরিকা তার পথ হারিয়েছে: ট্রাম্প
ইরানে বন্দুক হামলায় ৯ পাকিস্তানি নিহত