মার্কিন ঘাঁটিতে হতাহতের ঘটনায় চাপে বাইডেন

জর্ডান-সিরিয়া সীমান্তে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলার দায় নিয়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স নামের একটি গোষ্ঠী। হামলায় তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং কমপক্ষে ৩৪ জন মারাত্মক জখমের শিকার হয়েছেন।

গোষ্ঠীটি বলেছে, ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিশোধে নিতেই এই হামলা করা হয়েছে, আগমীতেও প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকিও দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
 
সোমবার আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হামলায় ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো জড়িত বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে বলেন, যদিও আমরা এখনও এই হামলার তথ্য সংগ্রহ করছি, আমরা জানি এই হামলা সিরিয়া ও ইরাকে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো করেছে।

এ সময় এই হামলায় দায়ীদের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নেয়া হবে বলে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। অন্যদিকে এক বিবৃতিতে এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছে জর্ডান এবং সীমান্ত সুরক্ষিত করতে ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করছে বলে জানিয়েছে দেশটি। যদিও হামলার শুরুতে মার্কিন মিত্র দেশটি ড্রোন হামলাটি রাজ্যের বাইরে সিরিয়ার সীমান্তের ওপারে ঘটেছে বলে জানিয়েছিল।

এদিকে, সিরিয়া-জর্ডান সীমান্তে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় সেনা হতাহত হবার ঘটনায় ইরানে হামলা চালাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ওপর বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ। তবে ইরান জানিয়েছে, জর্ডানে ড্রোন হামলা এবং মার্কিন সেনাদের হত্যার সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র নেই। বাইডেন বলেছেন,  আমরা এক সময় এবং আমাদের পছন্দের পদ্ধতিতে দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনব।

সোমবার, বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সিরিয়া-জর্ডানের ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় বাইডেন ইরানের ভেতরে-বাইরে দেশটির সেনা বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাতে পারেন। আবার শুধুমাত্র ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে আরও প্রতিশোধমূলক হামলা বেছে নিতে পারেন বাইডেন। দেশটির বিরোধী দল রিপাবলিকানরা চাইছে, বাইডেনকে এবার ইরানে হামলা চালাতেই হবে।

গত অক্টোবরে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীকে ইরাক, সিরিয়া, জর্ডান এবং ইয়েমেনের উপকূল থেকে ইরান-সমর্থিত বাহিনী ১৫০ বারেরও বেশি আক্রমণ করেছে। তবে জর্ডানের সীমান্তের কাছে রোববারের হামলার আগ পর্যন্ত এতে বেশি মার্কিন সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।