মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখ ফসকানো বা কথার খেই হারিয়ে ফেলা নতুন কিছু নয়। তবে, এবার মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি যেভাবে ‘ইরান’ আর ‘ভেনিজুয়েলা’কে গুলিয়ে একাকার করে ফেললেন, তা নিয়ে এখন ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলে মুখরোচক আলোচনা চলছে।
পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম উত্তেজনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। আর তখনই এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়ে বসেন ট্রাম্প। গম্ভীর মুখে তিনি বলে ওঠেন, ভেনিজুয়েলার সাথে একটা সংঘাত চলছে; যাদের এখন আর কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমানবাহিনী নেই, এমনকি দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো চেনা মানুষগুলোও আর বেঁচে নেই। তাদের পুরো নেতৃত্বই শেষ হয়ে গেছে!
অথচ কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা ভালো করেই জানেন, ট্রাম্প এর আগে হুবহু এই একই কথাগুলো একাধিকবার ‘ইরান’ সম্পর্কে বলেছিলেন। কিন্তু এবার ইরান বলতে গিয়ে মার্কিন মানচিত্রের ঠিক উল্টো পিঠে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলার নাম আউড়ে বসলেন তিনি। ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য ‘স্মৃতিবিভ্রম’ এমন এক সময়ে ঘটল, যার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি নিজের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো আত্মশ্লাঘা প্রকাশ করেছিলেন।
ওয়াশিংটনের ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে সম্প্রতি নিজের রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আর পরীক্ষা শেষেই নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ডাক্তার ও মেডিকেল স্টাফদের ধন্যবাদ জানিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় একেবারে ১০০-তে ১০০ পেয়েছেন! বড় বড় অক্ষরে তিনি লিখেন, সবকিছু একদম নিখুঁত এসেছে। পরীক্ষা শেষ করেই তিনি ফুরফুরে মেজাজে হোয়াইট হাউসে ফিরে যাচ্ছেন বলেও জানান।
আগামী মাসেই৮০ বছরে পা দিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। গত বছরের জানুয়ারি মাসে যখন তিনি আমেরিকার ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বার ক্ষমতা নেন, তখনই তিনি মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হিসেবে রেকর্ড গড়েন। বয়স আশির কোঠায় হওয়ায় তাঁর শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে প্রায়ই খোঁচা দেওয়া হয়। বিশেষ করে গত ১৩ মাসের মধ্যে এটি ছিল ওয়াল্টার রিড হাসপাতালে ট্রাম্পের তৃতীয়বারের মতো চক্কর কাটা।

অবশ্য হোয়াইট হাউস সবসময়ই প্রেসিডেন্টের বয়স ও স্বাস্থ্য নিয়ে যে কোনো গুঞ্জনকে উড়িয়ে দিতে ব্যস্ত। নিয়মিত গলফ খেলার অভ্যাস থাকা ট্রাম্প নিজেই অবশ্য ইদানীং জনসমক্ষে কৌতুক করে বলেন যে তিনি নাকি পর্যাপ্ত ব্যায়াম করেন না। তবে ওভাল অফিসের এক অনুষ্ঠানে মার্কিন স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র প্রেসিডেন্টের পক্ষে সাফাই গেয়ে জানান, গলফ খেলার সময় ট্রাম্প নাকি প্রায় ৯ মাইল পথ হাঁটেন!
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর মাসে ট্রাম্পের একটি এমআরআই স্ক্যান করা হয়েছিল, যা নিয়ে প্রথমে হোয়াইট হাউস কোনো তথ্য প্রকাশ করতে চায়নি। পরে অবশ্য প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে গিয়ে ট্রাম্পের স্বাস্থ্যকে অসাধারণ শারীরিক সুস্থতার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। কিন্তু গলফ মাঠে যতই হাঁটুন আর মেডিকেল রিপোর্টে যতই 'পারফেক্ট' আসুক না কেন, সংবাদ সম্মেলনে ইরান আর ভেনিজুয়েলাকে যেভাবে তিনি এক করে দিলেন, তাতে ট্রাম্পের ‘স্মৃতিশক্তি’র রিপোর্ট কার্ড নিয়ে কিন্তু স্বয়ং মার্কিন নাগরিকরাই এখন সামাজিক মাধ্যমে ট্রোল করতে ছাড়ছেন না!
