ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস বৈঠকের আলোচনায় আসা সব প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে দেখছে হামাস। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠীর রাজনৈতিক শাখার শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়ার বরাতে এই খবর দিয়েছে কাতারভিক্তিক আল জাজিরা টেলিভিশন।
হামাসের পলিটব্যুরো প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাবগুলো তারা পরীক্ষা করে দেখছেন। আর এক্ষেত্রে গাজায় স্থায়ীভাবে ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধ ও পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে সবচেয়ে আগে বিবেচনায় আনা হবে। হামাস শিগগিরই তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।
হানিয়া বলেন, হামাস যে কোনো গুরুতর ও বাস্তব উদ্যোগের ভিত্তিতে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যা একটি যুদ্ধবিরতি, ইসরাইলের হাতে বন্দী ফিলিস্তিনি বন্দীদের সাথে গাজায় বন্দীদের বিনিময় এবং অবরুদ্ধ উপত্যকার পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে। হামাস ‘সম্পূর্ণ এবং ব্যাপক’ যুদ্ধবিরতি চায়।
হামাসের রাজনৈতিক প্রধান নিশ্চিত করেছেন যে, প্যারিস আলোচনায় একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি পৌঁছানোর জন্য এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করার জন্য তারা মিসরের রাজধানীতে কায়রো সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছে।
এর আগে সোমবারও ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে হামাস জানিয়েছিলো যে কোনো বিনিময় চুক্তি প্রস্তাবের আগে অবশ্যই গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে হবে এবং পুরো অঞ্চল থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া কোনো চুক্তি মেনে নেবে না তারা।
স্থানীয় সময় রোববার ফ্রান্সের প্যারিসে জিম্মি মুক্তির এ প্রস্তাব করে ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জিম্মি বিনিময়ের একটি খসড়া প্রস্তাব হামাসের কাছে উত্থাপন করা হলে তা নাকচ করে দেয় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।
হামাসের কাসাম বিগ্রেডের এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা তাহের আল-নুন জানিয়েছেন, হামাস গাজায় যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তুত তবে সেটা সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি হতে হবে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাবে এটা সম্ভব নয়। আগে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। তারপর জিম্মি মুক্তিসহ বাকি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
রোববার প্যারিসের আলোচনা ভেস্তে গেলেও, পরের দিন সোমবার আবার তা নিয়ে নতুন ফর্মুলা তৈরি করা হয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছে, নতুন চুক্তিপত্র তারা হামাসের হাতে তুলে দেবে। তার আশা হামাস এই চুক্তিপত্র মেনে নেবে এবং সেইমতো ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে, গাজা উপত্যকায় ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় নিয়ে সম্ভাব্য একটি নতুন চুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি। সোমবার ওয়াশিংটনে আটলান্টিক কাউন্সিলের এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান।
তিনি বলেন, চুক্তির বিষয়ে সব পক্ষের মধ্যে সন্তোষজনক আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা করতে গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্যারিসে বৈঠকে বসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, ও ইসরাইলের গোয়েন্দা প্রধানরা। এ চুক্তির আওতায় পর্যায়ক্রমে যুদ্ধবিরতি, নারী ও শিশুদের প্রথমে মুক্তি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা পাঠানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।