হামলার পর ত্রিমুখী প্রতিশোধের চাপে যুক্তরাষ্ট্র

জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে রূপ নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকট সামাল দেয়া তো দূরে থাক এবার আর কথার লড়াই নয়, সমানে সমানে নিজেদের মধ্যেই ভয়ঙ্কর যুদ্ধ বাঁধিয়ে ফেলেছে মধ্যপ্রাচ্য আর পশ্চিমা দেশগুলো। শুধু তাই নয় ইসরাইলকে সমর্থন দিতে গিয়ে রীতিমতো আগুন নিয়ে খেলছে যুক্তরাষ্ট্র। 

শুধু তাই নয়, এবার সব সীমা পার করে ফেলেছে নিজের দেশেই চাপে পড়া প্রবীণ প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তিনি যেন খেই হারিয়ে ফেলছেন। তাই কিছু না বুঝেই বার বার রাগিয়ে তুলছেন ইরানকে। এবার হামলা করে বসেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক আর সিরিয়া ভূখণ্ডে। 

শুক্রবার সিরিয়া এবং ইরাকের ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি জর্ডানে তাদের এক সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে। গত রোববারের সেই হামলায় তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয় ও ৪০ জনের বেশি আহত হয়।

অভিযোগ আছে ইরাক ও সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত সশস্ত্র বাহিনীগুলোর অসংখ্য ঘাঁটি, অস্ত্রাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, যেসব জায়গা থেকে গত ৭ অক্টোবরের পর হতে এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর উপর ১৭০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলগুলোকেই এখন লক্ষ্যবস্তু করছে।

মার্কিন কমান্ড সেন্টার থেকে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর, আইআরজিসি ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর স্থাপনায় এসব হামলা চালায় ওয়াশিংটন। হামলায় দূরপাল্লার বি-ওয়ান বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়েছে, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকেই উড়িয়ে নেয়া হয়।

বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলছে, সাতটি স্থানে ৮৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে হামলা হয়েছে। ইরাকে তিনটি ও সিরিয়ায় চারটি স্থানে এসব হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কমান্ড, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, সামরিক রসদভাণ্ডার এবং ড্রোন স্টোরেজ ইউনিট। 

এতে করে শুধুমাত্র সিরিয়াতেই ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গ্রুপের অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে সিরিয়াভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস।হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে সিরিয়া এবং ইরাকে থাকা আইআরজিসির এলিট বাহিনী কুদস ফোর্সের স্থাপনা। 

ইরাক থেকে লেবানন, সিরিয়া থেকে ইয়েমেন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কুদস ফোর্সের ব্যাপক প্রভাব। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রভাব বাড়িয়েছে শক্তিশালী এই বাহিনী। এর মাধ্যমে রোববার সিরিয়া সীমান্তের কাছে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার জবাব দিলো ওয়াশিংটন। 

সামরিক ঘাঁটিতে চালানো হামলায় নিহত হন তিনজন মার্কিন সেনা। আহত হয়েছেন অন্তত ৪১ জন। ওই হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করে ওয়াশিংটন। এর প্রতিক্রিয়ায় সিরিয়া এবং ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

আর এর মাধ্যমে জো বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে প্রথম বহুমুখী প্রতিক্রিয়া। সামনের দিনগুলোতে বাড়তে পারে হামলার তীব্রতা। ওয়াশিংটন এই হামলাকে সফল বললেও ইরানে সরাসরি হামলার সাহস দেখাতে পারেননি বাইডেন। 

বাইডেনের হামলার ঘোষণার পরই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, যুদ্ধ চায় না ইরান, তবে সব উস্কানির জবাব দেবে তেহরান। আর নিজেদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা চালানোকে আমেরিকান আগ্রাসন বলেছে সিরিয়া। কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইরাকের সামরিক বাহিনীও। 

শুক্রবারের হামলার জেরে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন ইরাকের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহইয়া রসুল। বলেন, সীমান্তে হামলার কারণে বাগদাদ-ওয়াশিংটন সম্পর্কে দেখা দিতে পারে বড় টানাপড়েন। ইরাকের সন্ত্রাস-বিরোধী আমব্রেলা গ্রুপ- ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন ইরাক ও সিরিয়ার বেশি কয়েকটি মার্কিন অবস্থানে হামলা চালিয়েছে।

শনিবার ভোরে এক বিবৃতিতে ইরাকি প্রতিরোধ আন্দোলন বলেছে, তারা পশ্চিম ইরাকের আল-আনবার প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি আইন আল-আসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়া, সিরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে জর্দানের সীমান্তবর্তী আল-তানাফ সামরিক ঘাঁটি এবং সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাসাকা প্রদেশের আল-খাদরা গ্রামে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।